দেশের প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, রাজনৈতিক চিন্তাবিদ, গবেষক ও লেখক অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে সোমবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভিড় করেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। সাহিত্য, সংস্কৃতি, শিক্ষা ও রাজনৈতিক অঙ্গনের প্রতিনিধিরাও সেখানে উপস্থিত হয়ে তাঁর প্রতি সম্মান জানান।
সোমবার বেলা ১১টার দিকে মরহুমের মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আনা হলে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়। এ সময় বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
শ্রদ্ধা নিবেদন পর্ব শেষে দুপুর ১২টার দিকে তাঁর মরদেহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনসংলগ্ন অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে নেওয়া হয়। সেখানে বেলা ১টা পর্যন্ত জনসাধারণের শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ রাখা হয়। পরে বাদ জোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে তাঁর দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। জানাজা শেষে তাঁকে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হবে।
এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের মরদেহ বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে নেওয়া হয়। সেখানে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে নিয়ে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানান। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি বাংলা একাডেমির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন।
রোববার হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর।
তাঁর মৃত্যুতে দেশের শিক্ষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি অঙ্গনে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে। পৃথক শোকবার্তায় শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এছাড়া বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) এবং জাতীয় কবিতা পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠন তাঁর অবদানের কথা স্মরণ করে গভীর শোক জানিয়েছে।
দীর্ঘ কর্মজীবনে অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক শিক্ষা, সাহিত্য, ইতিহাসচর্চা ও রাজনৈতিক দর্শন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে দেশের বুদ্ধিবৃত্তিক অঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনরা।
