ভূমি অফিসে না গিয়েও খতিয়ান অনুসন্ধান ও সার্টিফায়েড কপি পাওয়ার সুযোগ
ডিজিটাল সেবার বিস্তারের ফলে এখন ঘরে বসেই অনলাইনে জমির পর্চা বা খতিয়ানের কপি সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে। জমি কেনাবেচা, নামজারি, ব্যাংক ঋণ গ্রহণ কিংবা মালিকানা যাচাইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যবহৃত এই নথি এখন স্বয়ংক্রিয় অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে সহজেই পাওয়া যাচ্ছে।
ভূমি-সংক্রান্ত সেবাকে নাগরিকদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ভূমি মন্ত্রণালয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে খতিয়ান অনুসন্ধান ও সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহের সুযোগ চালু করেছে। ফলে ভূমি অফিসে বারবার যাওয়ার প্রয়োজন অনেকটাই কমে এসেছে।
ভূমি বিশেষজ্ঞদের মতে, খতিয়ান হলো জমির মূল রেকর্ড, যেখানে মালিকানা, দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ এবং শ্রেণিসহ বিভিন্ন তথ্য সংরক্ষিত থাকে। অন্যদিকে পর্চা হলো সেই খতিয়ানের ব্যবহারযোগ্য বা প্রত্যয়নযোগ্য অনুলিপি, যা বিভিন্ন প্রশাসনিক, আর্থিক ও আইনি কাজে ব্যবহার করা হয়।
জমি ক্রয়-বিক্রয়, উত্তরাধিকার নির্ধারণ, ব্যাংক ঋণ গ্রহণ কিংবা আদালতে মালিকানা প্রমাণের ক্ষেত্রে পর্চা গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত হয়।
বর্তমানে স্বয়ংক্রিয় ভূমি ব্যবস্থাপনা সিস্টেমের আওতায় অনলাইনে খতিয়ান অনুসন্ধান করা যায়। এ জন্য নির্ধারিত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে বিভাগ, জেলা, উপজেলা এবং মৌজার তথ্য নির্বাচন করতে হবে।
এরপর খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর অথবা মালিকের নাম ব্যবহার করে অনুসন্ধান করলে সংশ্লিষ্ট জমির তথ্য দেখা যাবে। এতে জমির মৌলিক তথ্য দ্রুত যাচাই করার সুযোগ পাওয়া যায়।
সার্টিফায়েড পর্চা সংগ্রহের জন্য আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য, জন্মতারিখ এবং সক্রিয় মোবাইল নম্বর প্রয়োজন হবে। আবেদন সম্পন্ন করার পর নির্ধারিত ফি অনলাইনে পরিশোধ করতে হবে।
ফি জমা দেওয়ার পর আবেদনকারী ডিজিটাল কপি ডাউনলোড করতে পারবেন। এছাড়া প্রয়োজন হলে ডাকযোগে অথবা সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস থেকে প্রত্যয়নকৃত কপি সংগ্রহের ব্যবস্থাও রয়েছে।
বর্তমান নির্ধারিত হার অনুযায়ী, তাৎক্ষণিক অনলাইন কপি সংগ্রহের জন্য ১০০ টাকা ফি দিতে হয়। ডাকযোগে সার্টিফায়েড কপি গ্রহণ করতে চাইলে অতিরিক্ত ডাক ব্যয়ও পরিশোধ করতে হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইনভিত্তিক ভূমি সেবা চালুর ফলে সময়, অর্থ ও ভোগান্তি কমেছে। একই সঙ্গে ভূমি সংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও সহজ হয়েছে। এতে জালিয়াতি ও প্রতারণার ঝুঁকিও কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
তবে জমি কেনাবেচা বা বড় ধরনের আর্থিক লেনদেনের আগে সংশ্লিষ্ট খতিয়ান, পর্চা এবং অন্যান্য ভূমি নথির তথ্য একাধিকবার যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারে ভূমি সেবা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সহজলভ্য হয়েছে। অনলাইনে জমির পর্চা সংগ্রহের সুযোগ সাধারণ নাগরিকের সময় ও খরচ কমানোর পাশাপাশি ভূমি ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করে তুলছে।
