পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মানিব্যাগ চুরির অপবাদ দিয়ে ১২ বছরের এক শিশু ও তার মাকে বাঁশের লাঠি দিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও আইনজীবী হাফিজুর রহমান চুন্নুর বিরুদ্ধে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
মারধরের পর আতঙ্কে শিশু জিসান ও তার মা নাজমা বেগম চার দিন ঘর থেকে বের হতে পারেননি বলে জানা গেছে। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে মঙ্গলবার সকালে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
ঘটনাটি ঘটেছে গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার চাকামইয়া ইউনিয়নের গামুরবুনিয়া গ্রামে। ভুক্তভোগী জিসানের বয়স ১২ বছর। সে ওই গ্রামের মৃত বাচ্চু হাওলাদারের ছেলে।
জিসানের মা নাজমা বেগমের দাবি, প্রায় দেড় বছর আগে তাঁর স্বামী বাচ্চু হাওলাদার মারা যান। এর আগে জমি বন্ধক রাখার বিনিময়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান চুন্নুর ছোট ভাই আবদুল হাইকে তাঁর স্বামী এক লাখ টাকা দিয়েছিলেন। তবে এ লেনদেনের কোনো লিখিত কাগজ ছিল না।
নাজমা জানান, স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি ওই টাকা লেনদেনের লিখিত প্রমাণ চেয়ে কয়েকবার আবদুল হাইয়ের কাছে যান। এতে চুন্নু ও তাঁর ভাই ক্ষুব্ধ ছিলেন বলে তাঁর দাবি।
বৃষ্টির কারণে সড়কে কাদা থাকায় চুন্নুর বাড়ির পাশ দিয়ে হেঁটে তাঁদের বাড়িতে যাতায়াত করতেন বলেও জানান নাজমা।
নাজমার ভাষ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার চুন্নু ও তাঁর ভাই জিসান ও তাঁকে নিজেদের ঘরে ডেকে নেন। সেখানে মানিব্যাগ চুরির অপবাদ দিয়ে বাঁশের লাঠি দিয়ে তাঁদের মারধর করা হয়।
নাজমার অভিযোগ, জমি বন্ধকের এক লাখ টাকা দেওয়ার লিখিত প্রমাণ চাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁদের ওপর এ হামলা চালানো হয়েছে।
কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, সকালে শিশুটি ও তার মা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। দুজনের শরীরেই আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আঘাতের স্থানগুলো কালো হয়ে গেছে এবং তাঁদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে হাফিজুর রহমান চুন্নু গণমাধ্যমকে বলেন, ওই ছেলে চুরি করে এবং এলাকার বিভিন্ন জায়গায় চুরি করে বেড়ায়। তাঁর দাবি, ঘটনার দিন চুরির পর তিনি প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েছিলেন এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে ‘দুই একটা পিডান পুডান দিয়ে ছেড়ে দিতে’ বলা হয়েছিল।
শিশুটির মাকে কেন মারধর করা হয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে চুন্নু বলেন, তারা ‘এলাকার জাত চোর’। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, শিশুটির মা তাঁর ভাগ্নি। পরে তিনি শিশুটিকে ঢাকায় পাঠিয়ে দেওয়ার কথা বলেছিলেন বলে জানান।
তবে কলাপাড়া থানার ওসি মো. নজরুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের কোনো বিষয় তাঁকে জানানো হয়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এমন কোনো কথা বলা হয়নি বলেও জানান তিনি।
