সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব ও যুগ্মসচিবের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ; আরও কয়েকজন সাবেক মন্ত্রী-এমপির তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের হাতে
জুলাই আন্দোলন ঘিরে সংঘটিত সহিংসতা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম এবং সাবেক যুগ্মসচিব ধনঞ্জয় কুমার দাসের বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যক্রম শেষ হয়েছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত ও সাক্ষ্যপ্রমাণ যাচাইয়ের পর তাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিলের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, তদন্তে উঠে আসা অভিযোগ ও প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, দুই সাবেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’ বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ হিসেবে দায়বদ্ধতার নীতির আওতায় অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত সহিংস ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রে তারা দায়িত্বশীল অবস্থানে ছিলেন এবং অপরাধ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থ হন।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ওই সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও সহিংস কর্মকাণ্ডে উসকানি, নির্দেশনা প্রদান এবং পরিকল্পনামূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার বিষয়েও তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপনের জন্য প্রসিকিউশন প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত করছে।
একই ঘটনায় আওয়ামী লীগের কয়েকজন সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে চলমান তদন্তের অগ্রগতির বিষয়েও তথ্য দিয়েছে প্রসিকিউশন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আমির হোসেন আমু, দীপু মনি, শাহজাহান খান, কামাল আহমেদ মজুমদার এবং আবদুর রাজ্জাকসহ প্রায় ১০ জন সাবেক রাজনৈতিক নেতার তদন্ত প্রতিবেদন ইতোমধ্যে প্রসিকিউশনের কাছে পৌঁছেছে।
এসব প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে অভিযোগ গঠনের মতো পর্যাপ্ত উপাদান পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আইনি কার্যক্রম শুরু হতে পারে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, তদন্ত প্রতিবেদন জমা হওয়ার পর প্রসিকিউশন অভিযোগপত্র প্রস্তুত করে ট্রাইব্যুনালে দাখিল করবে। এরপর ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গ্রহণ, শুনানি এবং বিচারিক কার্যক্রমের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সংঘটিত বিভিন্ন সহিংস ঘটনা, প্রাণহানি এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একাধিক তদন্ত চলছে। গত কয়েক মাসে বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে তদন্ত সংস্থা ব্যাপক তথ্য সংগ্রহ করেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের হাতে পৌঁছানোয় এসব মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া নতুন গতি পেতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা।
বিশ্লেষকদের মতে, আলোচিত ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া দেশের বিচারব্যবস্থার প্রতি জনআস্থা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও এসব মামলার ফলাফল তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
দুই সাবেক আমলার বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ হওয়ার মধ্য দিয়ে জুলাই আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের বিচারিক প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। এখন তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রসিকিউশন কী ধরনের অভিযোগ উপস্থাপন করে এবং ট্রাইব্যুনাল পরবর্তী পদক্ষেপ কী নেয়, সেদিকেই নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট মহলের।
