জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী মাদ্রাসা শিক্ষার্থী ও আলেমদের আত্মত্যাগের তথ্য সংবলিত একটি ‘পূর্ণাঙ্গ শহীদ তালিকা’ প্রকাশ করেছে তরুণ আলেমদের সংগঠন সাধারণ আলেম সমাজ (সাআস)। সংগঠনটির দাবি, দীর্ঘ ১০ মাসের অনুসন্ধানের ভিত্তিতে তারা আন্দোলনে শহীদ হওয়া ৮৫ জন মাদ্রাসা শিক্ষার্থী ও আলেমের তথ্য সংগ্রহ করেছে।
মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সাআস জানায়, তালিকাভুক্ত শহীদদের আত্মত্যাগকে স্মরণীয় করে রাখতে তাদের প্রতীকীভাবে ‘জুলাইয়ের আবাবিল’ নামে অভিহিত করা হয়েছে। সংগঠনটির মতে, পবিত্র কোরআনে বর্ণিত আবাবিল পাখি যেমন জুলুমের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রতীক, তেমনি এই তরুণরাও কোনো সামরিক শক্তি ছাড়াই ঈমান, আদর্শ ও দেশপ্রেমের প্রেরণায় আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন।
সাধারণ আলেম সমাজের মুখপাত্র রিদওয়ান হাসান বলেন, অতীতে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের শাহাদাত নিয়ে বিভিন্ন তালিকা প্রকাশিত হলেও সেগুলোর তথ্যগত নির্ভুলতা নিয়ে প্রশ্ন ছিল। অনেক ক্ষেত্রেই যাচাই-বাছাই ছাড়াই তথ্য সংযোজন করা হয়েছিল। তবে নতুন এই তালিকা প্রণয়নের ক্ষেত্রে প্রত্যেক শহীদের পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাৎকার, ঘটনার প্রত্যক্ষ বিবরণ এবং সরকারি গেজেটের তথ্য যাচাই করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে মাদ্রাসা শিক্ষার্থী শহীদের সংখ্যা ২৬ জন উল্লেখ করা হলেও তাদের অনুসন্ধানে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি পাওয়া গেছে।
সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, জুলাই আন্দোলনের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী দিন ছিল ১৯ জুলাই। ওই দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে ২৩ জন মাদ্রাসা শিক্ষার্থী নিহত হন। এ কারণে আন্দোলনের ইতিহাসে দিনটিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সাআস। একই সঙ্গে সংগঠনটি দাবি করেছে, শহীদবিহীন ২১ জুলাইকে ‘প্রতিরোধ দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হলে তা শহীদদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়নের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে না।
এদিকে শহীদদের জীবন, সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের তথ্য সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে ‘জুলাইয়ের আবাবিল’ শীর্ষক একটি গবেষণাধর্মী গ্রন্থও প্রকাশ করেছে সংগঠনটি। বইটির লেখক সাধারণ আলেম সমাজের সাধারণ সম্পাদক আকিফ আব্দুল্লাহ এবং সম্পাদক রিদওয়ান হাসান। এতে ৮৫ জন শহীদের জীবনী, পারিবারিক পরিচয় এবং শাহাদাতের প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়েছে।
বিবৃতিতে সংগঠনটি উল্লেখ করে, এই ৮৫ জন শহীদ কেবল একটি পরিসংখ্যান নয়; তাদের প্রত্যেকের সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটি পরিবার, একটি স্বপ্ন এবং আত্মত্যাগের ইতিহাস। তাই রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাসকে জাতীয় সম্পদ হিসেবে সংরক্ষণের আহ্বান জানিয়েছে তারা।
