ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সে ফার্স্টক্লাস ফার্স্ট হওয়া রুমা বেগমের জীবনের শেষ অধ্যায় কাটছে বরিশালের কাউনিয়া এলাকার একটি বৃদ্ধাশ্রমে। একসময় মেধা ও স্বপ্ন দিয়ে ভবিষ্যৎ গড়ার চেষ্টা করা রুমা এখন আপনজনের অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন।
বরিশাল নগরীর কাউনিয়া এলাকার ওই বৃদ্ধাশ্রমে বর্তমানে প্রায় ৭০ জন বৃদ্ধ-বৃদ্ধা বসবাস করছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাদের অনেকেই পরিবার ও স্বজনদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে এখানে আশ্রয় নিয়েছেন।
রুমা বেগম একসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সে ফার্স্টক্লাস ফার্স্ট হয়েছিলেন। তাঁর জীবনের সেই একাডেমিক সাফল্য তাঁকে পরিচিতি দিয়েছিল। তবে বয়সের শেষ পর্যায়ে এসে আপনজনের সঙ্গ থেকে দূরে থাকছেন তিনি।
বৃদ্ধাশ্রমে নতুন সঙ্গীদের সঙ্গে মিশতে এবং কথা বলতে চেষ্টা করেন রুমা। কিন্তু পুরোনো জীবনের কথা উঠলে তাঁর কণ্ঠ থেমে যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা রুমার জীবনে এখন সবচেয়ে বড় অভাব হয়ে দাঁড়িয়েছে আপন মানুষের সঙ্গ।
রুমার মতোই ওই বৃদ্ধাশ্রমে দিন কাটছে আসমা, খাদেজা, অঞ্জলী, উষা রানী, বানু ও কহিনূর বেগমের। প্রত্যেকের জীবনের গল্প আলাদা হলেও তাদের কষ্টের জায়গা একই—আপনজনের কাছ থেকে দূরে সরে যাওয়া।
আসমার জীবনে ছিল সংসার ও আপনজন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের মানুষগুলো দূরে সরে গেছে। এখন দিনের বড় একটি সময় তিনি অন্য বৃদ্ধাদের সঙ্গে গল্প করে কাটান।
খাদেজাও জীবনের দীর্ঘ সময় সন্তানদের জন্য কাটিয়েছেন। সন্তানদের বড় করেছেন ও সংসার সামলেছেন। কিন্তু শেষ বয়সে এসে তাঁদের কাছেই নিজেকে অতিরিক্ত একজন মনে হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অঞ্জলী ও উষা রানীর জীবনেও রয়েছে আপনজন হারানোর বেদনা। কেউ দীর্ঘদিন পরিবারের সঙ্গে থেকেও বিচ্ছিন্ন হয়েছেন, আবার কেউ ধীরে ধীরে নিজের ঘরেই থাকার অধিকার হারিয়েছেন।
বানু ও কহিনূর বেগমও এখন বৃদ্ধাশ্রমের বাসিন্দা। কখনো তারা নিজেদের মধ্যে কথা বলেন, পুরোনো দিনের গল্প করেন, আবার কখনো চুপচাপ বসে থাকেন।
অঞ্জলী রানী বলেন, শেষ বয়সে এসে তাঁর আর কোনো বড় চাওয়া নেই। সন্তানরা কাছে এসে কিছুক্ষণ বসবেন এবং দুটো কথা বলবেন—এটুকুই তাঁর প্রত্যাশা।
সারা জীবন যাদের জন্য করেছেন, তাঁদের কাছ থেকে বড় কোনো কিছু চান না তিনি। শুধু সন্তানদের কাছে নিজেকে এখনো প্রয়োজনীয় একজন মানুষ হিসেবে অনুভব করতে চান।
বৃদ্ধাশ্রমের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক সাখাওয়াত জানান, সেখানে থাকা প্রায় ৭০ জন বৃদ্ধ-বৃদ্ধার প্রত্যেকের জীবনেই রয়েছে কষ্টের গল্প। কেউ সন্তানদের অবহেলায় এখানে এসেছেন, আবার কেউ পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। তাঁদের অনেকেই এখনো স্বজনদের ফিরে আসার অপেক্ষায় রয়েছেন।
