কুমিল্লার লালমাইয়ে জমির খতিয়ান না থাকায় তাছলিমা আক্তার নামের এক তরুণীর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ আটকে যায়। পরে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর হস্তক্ষেপে জটিলতার সমাধান হয়েছে। শেষ পর্যন্ত তাছলিমার হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়েছে।
তাছলিমা লালমাই উপজেলার ভূলইন দক্ষিণ ইউনিয়নের পরতী গ্রামের অটোরিকশাচালক অহিদুর রহমানের মেয়ে। তিনি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী। ছয় কন্যার বাবা অহিদুর রহমান অটোরিকশা চালিয়ে পরিবারের খরচ চালান।
প্রতিবেদনে জানা যায়, তাছলিমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। নিয়োগের অন্যান্য শর্ত পূরণ করলেও তাঁর বাবার নামে জমির খাজনা-খতিয়ান না থাকায় মন্ত্রণালয় থেকে নিয়োগপত্র আটকে দেওয়া হয়।
এতে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন তাছলিমা ও তাঁর পরিবার। আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারে বড় হওয়া তাছলিমার শিক্ষক হওয়ার স্বপ্নও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
তাছলিমার নিয়োগ আটকে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে তা কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর নজরে আসে। পরে তিনি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেন।
একপর্যায়ে তাছলিমা আক্তার ও তাঁর পরিবারের হাতে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়।
লালমাই উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ফরহাদ উদ্দিন ও কাজী জাফর আহমেদ রাজন বলেন, তাছলিমা তাঁদের গ্রামের মেয়ে। ভূমিহীন হওয়ায় তাঁর চাকরি বাতিলের বিষয়টি জানতে পেরে তাঁরা এমপি মনিরুল হক চৌধুরীকে বিষয়টি জানান। পরে তিনি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে চাকরির ব্যবস্থা করেন বলে তাঁদের দাবি।
তাছলিমা আক্তার বলেন, শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় পাস করলেও বাবার নামে জমির খাজনা-খতিয়ান না থাকায় তাঁর নিয়োগপত্র আটকে যায়। জেলা পর্যায় থেকে সব ঠিক থাকলেও মন্ত্রণালয় নিয়োগপত্র বাতিল করে দেয়।
তিনি বলেন, দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়ায় চাকরিটা তাঁর খুব প্রয়োজন ছিল। বাবা অনেক কষ্ট করে তাঁকে কলেজ পর্যন্ত পড়িয়েছেন। ভূমিহীন হওয়ায় সব শর্ত পূরণ করেও নিয়োগ না পাওয়ায় পরিবারটি বিপাকে পড়েছিল। এখন মনিরুল হক চৌধুরীর সহযোগিতায় নিয়োগপত্র হাতে পেয়ে তিনি আনন্দিত এবং পাশে দাঁড়ানো সবার প্রতি কৃতজ্ঞ।
তাছলিমার বাবা অহিদুর রহমান বলেন, আর্থিক সংকটের মধ্যেও তাঁর মেয়ের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পেছনে শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন ছিল। নিয়োগপত্র পাওয়ার মধ্য দিয়ে সেই স্বপ্ন পূরণের পথ খুলেছে। মেয়ের চাকরির সুযোগ নিশ্চিত হওয়ায় তিনি এমপি মনিরুল হক চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
