ভারতের দিল্লিতে নিট পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলনের প্রতি সমর্থন বাড়ছে। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বলিউডের একাধিক তারকাও আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। গভীর রাতে যন্তর মন্তরে গিয়ে সংহতি জানিয়েছেন অভিনেত্রী হুমা কুরেশি ও তাঁর ভাই সাকিব সালিম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমর্থন জানিয়েছেন সালমান খান, ইমরান খান, দুলকার সালমানসহ আরও অনেক শিল্পী।
ভারতের রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলনে এবার সরাসরি অংশ নিয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী হুমা কুরেশি ও তাঁর ভাই, প্রযোজক-অভিনেতা সাকিব সালিম। নিট পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে চলমান আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানাতে বুধবার গভীর রাতে তারা আন্দোলনস্থলে যান। এ সময় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায় তাঁদের। ঘটনাটির ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
গত কয়েক দিনে যন্তর মন্তরের আন্দোলন দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি চলচ্চিত্র অঙ্গনের অনেক তারকাও শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন। কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, আবার কেউ সরাসরি আন্দোলনস্থলে উপস্থিত হয়ে সংহতি প্রকাশ করছেন।
এর আগে অভিনেতা সালমান খান ইনস্টাগ্রামে শিক্ষার্থীদের সমর্থনে পোস্ট দেন। তিনি শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের প্রশংসা করে বলেন, উন্নত শিক্ষাব্যবস্থার দাবির আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়া উচিত নয়। একই সঙ্গে ২০ জুলাইয়ের ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিতে সংঘর্ষের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে আহত শিক্ষার্থী ও তাঁদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। প্রশ্নপত্র ফাঁসকে তিনি ‘অত্যন্ত গুরুতর সমস্যা’ বলে উল্লেখ করেন এবং শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার জন্য অভিভাবকদের ধন্যবাদ জানান।
এদিকে মুম্বাইয়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন অভিনেতা ইমরান খান। বৃষ্টির মধ্যেই শত শত শিক্ষার্থীর সঙ্গে হাঁটতে দেখা যায় তাঁকে। এক স্বাধীন সাংবাদিককে তিনি বলেন, “যেসব শিক্ষার্থী কঠোর পরিশ্রম করেছে, কিন্তু সেই পরিশ্রমকে মূল্যহীন করে দেওয়া হয়েছে, তাদের প্রতি সমর্থন জানাতেই আমি এখানে এসেছি। এটি আমাদের দেশের ভবিষ্যতের জন্য একটি লড়াই।”
মুম্বাইয়ের মিছিলে যোগ দেওয়ার আগেই দিল্লিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপের সমালোচনা করেন ইমরান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, “আজ আমার ভেতরে যেন কিছু একটা ভেঙে গেছে। যারা কঠোর পরিশ্রম করেছে, অথচ ব্যবস্থার ব্যর্থতায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের ওপর পুলিশকে কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়তে ও লাঠিপেটা করতে দেখে আমি হতবাক। যারা শুধু নিজেদের কথা শোনাতে চেয়েছিল, তাদের নীরব করে দেওয়া হয়েছে। যারা দেশের নাগরিক হিসেবে নিজেদের দাবি তুলে ধরেছিল, তাদের ওপরই দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে।”
চলমান আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন আরও অনেক তারকা। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন জিনাত আমান, অনুরাগ কশ্যপ, শাবানা আজমি, রত্না পাঠক শাহ, অভয় দেওল ও ওমি বৈদ্য। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন বক্তব্যে তাঁরা শিক্ষার্থীদের দাবি এবং সোনম ওয়াংচুকের আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন।
মালয়ালম অভিনেতা দুলকার সালমান ইনস্টাগ্রামে লেখেন, শিক্ষা শুধু পরীক্ষা নয়; এটি ভবিষ্যতের আশা ও সম্ভাবনার প্রতীক। তরুণদের অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে দেখা অত্যন্ত বেদনাদায়ক বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ সমাধান, সংলাপ এবং সহমর্মিতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের আহ্বান জানান।
নির্মাতা ইমতিয়াজ আলী আন্দোলনের একটি ছবি শেয়ার করে লেখেন, “আমাদের ভবিষ্যতের জন্য যা করতে হবে, তা হলো তার কথা শোনা।”
এদিকে নির্মাতা ও অভিনেত্রী পূজা ভাট আন্দোলন মোকাবিলায় সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে শিক্ষার্থীদের দাবির জবাব বলপ্রয়োগের পরিবর্তে সংলাপের মাধ্যমে দেওয়ার আহ্বান জানান।
অভিনেত্রী অদিতি রাও হায়দারি বলেন, তিনি একজন অভিনেত্রী হিসেবে নয়, বরং একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে কথা বলছেন। সহিংসতার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি অহিংসা, মর্যাদা, নিরাপত্তা এবং শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছ আলোচনার পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। তাঁর ভাষায়, “কষ্টে থাকা মানুষের পাশে দাঁড়ানো কোনো রাজনৈতিক এজেন্ডা নয়, এটি মানবিক দায়িত্ব।”
এ ছাড়া সোনাক্ষী সিনহা, শাবানা আজমি, নিমরত কৌর, অরিজিৎ সিং ও অনুভ জৈন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।
অন্যদিকে অভিনেতা অনুপম খের শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানালেও আন্দোলনকে ‘রাজনৈতিক সুযোগসন্ধানীদের’ হাতিয়ার হতে না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত, তবে তাদের মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হওয়া উচিত নয়।
এদিকে অভিনেত্রী আয়েশা খান দাবি করেছেন, মুম্বাইয়ের একটি বিক্ষোভে অংশ নিতে গিয়ে তাঁকে অল্প সময়ের জন্য আটক করা হয়েছিল। পরে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানান।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে।
