নরওয়ের রাজা পঞ্চম হারাল্ডের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৮৯ বছর বয়সী রাজার অবস্থা ‘অত্যন্ত গুরুতর’ বলে জানিয়েছে রাজপরিবার। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাজধানী অসলোতে রাজপ্রাসাদের সামনে ফুল নিয়ে জড়ো হয়েছেন দেশটির বহু মানুষ।
রাজা হারাল্ড বর্তমানে অসলো বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁর স্ত্রী রানি সোনিয়া এবং ছেলে ক্রাউন প্রিন্স হাকন রাজকীয় বিভিন্ন কর্মসূচি বাতিল করে হাসপাতালে তাঁর পাশে অবস্থান করছেন। পরিবারের অন্য সদস্যরাও হাসপাতালে গিয়ে কয়েক ঘণ্টা সময় কাটিয়েছেন।
রাজপরিবারের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে জানানো হয়, রাজার শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে। এর আগে তাঁর অবস্থাকে ‘অত্যন্ত গুরুতর’ বলা হয়েছিল।
রাজা হারাল্ড গত ১০ দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি। তিনি হিমোলাইটিক অ্যানিমিয়া নামে একটি বিরল রক্তরোগের চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ রোগে শরীরে লোহিত রক্তকণিকার সংখ্যা কমে যায়, যার ফলে ক্লান্তি ও শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এই রোগের জন্য তাঁকে কর্টিসোন দিয়ে চিকিৎসা করা হয়েছে।
১৯৯১ সাল থেকে নরওয়ের সিংহাসনে থাকা রাজা হারাল্ড বর্তমানে ইউরোপের সবচেয়ে বয়স্ক রাষ্ট্রপ্রধান। তাঁর অনুপস্থিতিতে ৫৩ বছর বয়সী ক্রাউন প্রিন্স হাকন রাজপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
রাজার শারীরিক অবস্থার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর অসলোতে বিষণ্ন পরিবেশ তৈরি হয়েছে। দিনভর রাজপ্রাসাদের সামনের চত্বরে মানুষের ভিড় ছিল। নরওয়ের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনও নিয়মিত অনুষ্ঠানসূচি পরিবর্তন করে বিষয়টি নিয়ে সম্প্রচার করেছে।
রাজপরিবারের কোনো সদস্য সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা না বললেও তাঁদের হাসপাতালে যাওয়ার বিষয়টি সাধারণ মানুষের মধ্যে পরিস্থিতির গুরুত্ব সম্পর্কে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
হাসপাতালে যাওয়া রাজপরিবারের সদস্যদের মধ্যে ছিলেন ক্রাউন প্রিন্স হাকন, ক্রাউন প্রিন্সেস মেটে-মারিট, রাজা হারাল্ডের বোন প্রিন্সেস অ্যাস্ট্রিড এবং হাকন ও মেটে-মারিটের সন্তান প্রিন্সেস ইনগ্রিড আলেকজান্দ্রা ও প্রিন্স স্ভের্রে ম্যাগনুস।
প্রধানমন্ত্রী জোনাস গার স্টোরেও বৃহস্পতিবার জার্মানি সফর বাতিল করেছেন। সেখানে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্ৎসের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের কথা ছিল। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, পুরো জাতি রাজার সঙ্গে রয়েছে এবং রাজা ও রাজপরিবারের জন্য উষ্ণ শুভকামনা জানাচ্ছে।
রাজা হারাল্ড সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একাধিক স্বাস্থ্য সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন। এর কারণে তাঁকে রাজকীয় দায়িত্বও কমিয়ে আনতে হয়েছে।
২০২৪ সালে মালয়েশিয়ায় ছুটিতে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তাঁর শরীরে পেসমেকার বসানো হয়।
এদিকে ২০২৬ সালটি নরওয়ের রাজপরিবারের জন্য বেশ কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। জুনে ক্রাউন প্রিন্সেস মেটে-মারিট ফুসফুস প্রতিস্থাপন করান। ২০১৮ সালে তাঁর বিরল ধরনের পালমোনারি ফাইব্রোসিস শনাক্ত হয়েছিল।
একই সময়ে রাজপরিবারের আরেক সদস্য মারিয়ুস বর্গ হোয়িবি চার বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। ধর্ষণের দুটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তিনি রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করছেন এবং বর্তমানে গৃহবন্দি রয়েছেন। তিনি গুরুতর অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন।
এ ছাড়া বছরের শুরুতে প্রকাশিত নথিতে মেটে-মারিটের প্রয়াত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য সামনে আসে। পরে তিনি নরওয়ের রাজা ও রানির কাছে ক্ষমা চান এবং এপস্টেইনের সঙ্গে তিন বছরের বন্ধুত্বকে ‘ভুল বিচারবোধের’ ফল হিসেবে উল্লেখ করেন।
