ওআইসি সম্মেলনের ফাঁকে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক; বাণিজ্য, শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নেও অংশীদারত্ব বাড়ানোর আলোচনা
নারীর ক্ষমতায়ন, সামাজিক উন্নয়ন এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও গতিশীল করতে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে পাকিস্তান। দেশটি জানিয়েছে, ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)-এর প্ল্যাটফর্মের পাশাপাশি অন্যান্য ক্ষেত্রেও নারীর উন্নয়ন ও অংশগ্রহণ বাড়াতে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে তারা আগ্রহী।
সোমবার (১৩ জুলাই) পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিনেটর মোহাম্মদ ইসহাক দার বাংলাদেশের সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী ড. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এ আশ্বাস দেন।
বৈঠকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নারীবিষয়ক নবম ওআইসি মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণকে ইসলামাবাদ ইতিবাচকভাবে দেখছে। তিনি মনে করেন, মুসলিম বিশ্বে নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা এবং অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
পাকিস্তান এই অভিজ্ঞতা ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে যৌথ উদ্যোগে কাজ করতে আগ্রহী বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আলোচনায় গত বছরের ঢাকা সফরের স্মৃতিচারণ করে ইসহাক দার বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শিক্ষা খাতে বিনিময় কর্মসূচি, সামাজিক কল্যাণমূলক কার্যক্রম এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তার মতে, পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ হতে পারে।
বৈঠকে দুই দেশের প্রতিনিধিরা বাণিজ্য, শিক্ষা, নারী ও শিশু উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা এবং জনগণের মধ্যে সাংস্কৃতিক ও সামাজিক যোগাযোগ বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার দুই গুরুত্বপূর্ণ দেশের মধ্যে সহযোগিতা বাড়লে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে অভিজ্ঞতা বিনিময় উভয় দেশের জন্যই লাভজনক হতে পারে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক উন্নয়নকে কেন্দ্র করে নতুন সহযোগিতা উদ্যোগ দুই দেশের সম্পর্ককে আরও বহুমাত্রিক করতে পারে।
ইসলামাবাদের বৈঠকে নারীর ক্ষমতায়নকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর যে বার্তা এসেছে, তা ভবিষ্যতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন ক্ষেত্র উন্মোচন করতে পারে। বিশেষ করে শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন ও নারী নেতৃত্ব বিকাশে যৌথ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দুই দেশই এর সুফল পেতে পারে।
