ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজি পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আদেশ; জনস্বার্থের কথা বলছে সরকার
বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজি পদমর্যাদার ৩৩ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। রোববার রাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর বিধান অনুযায়ী ‘জনস্বার্থে’ এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, অবসরে পাঠানো কর্মকর্তাদের বড় একটি অংশ পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁদের মধ্যে অনেকেই ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের সময় বিভিন্ন জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সরকারি চাকরি থেকে অবসর প্রদান করা হলো। একই সঙ্গে বিধি অনুযায়ী তারা অবসর-পরবর্তী সব আর্থিক ও প্রশাসনিক সুবিধা পাবেন।
সরকারি সিদ্ধান্তটি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো ৩৩ কর্মকর্তার মধ্যে ডিআইজি পদমর্যাদার অন্তত দুজন বর্তমানে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার অবস্থায় রয়েছেন। এছাড়া কয়েকজন কর্মকর্তা পলাতক বলে জানা গেছে। অন্যরা বিভিন্ন দপ্তরে সংযুক্ত বা বিশেষ দায়িত্বে কর্মরত ছিলেন।
প্রশাসন বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পুনর্বিন্যাস ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। যদিও সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জনস্বার্থ’ ছাড়া অন্য কোনো কারণ উল্লেখ করেনি, তবুও এই সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের একযোগে অবসরে পাঠানো পুলিশ প্রশাসনের নেতৃত্ব কাঠামো ও পদায়ন প্রক্রিয়ায় নতুন পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিতে পারে।
একসঙ্গে এতসংখ্যক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার অবসর পুলিশ বাহিনীতে পদোন্নতি ও দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। একই সঙ্গে প্রশাসনিক কার্যক্রমে দক্ষতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানোর লক্ষ্যেও এ পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের বিদায়ের ফলে কিছু ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতার ঘাটতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
পুলিশের ৩৩ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত দেশের প্রশাসনিক অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী এটি জনস্বার্থে নেওয়া পদক্ষেপ হলেও এর রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রভাব নিয়ে আগামী দিনগুলোতে আরও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
