| গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, জনদুর্ভোগ লাঘব, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং দক্ষিণাঞ্চলের সার্বিক অগ্রগতির দাবিতে বরিশালে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশ শুরু হয়েছে। একই দিনে পটুয়াখালীতে এক উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ উন্নয়ন কাজে অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন।
শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুর ২টায় বরিশাল নগরীর ভাটারখাল এলাকার কেন্দ্রীয় হেমায়েত উদ্দিন ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে বিভাগীয় সমাবেশের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।
সমাবেশকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই বরিশাল মহানগরীসহ বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে নেতাকর্মীরা সড়ক ও নৌপথে সমাবেশস্থলে আসতে থাকেন। বিভিন্ন স্থান থেকে মিছিল নিয়ে তারা ঈদগাহ ময়দানে জড়ো হন। সমাবেশ শুরু হওয়ার আগেই মাঠ নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে পূর্ণ হয়ে যায় এবং নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মিছিল ও স্লোগানে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়।
সমাবেশে যোগ দিতে বেলা ১১টার মধ্যেই বরিশালে পৌঁছান বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় নেতারা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে ডা. শফিকুর রহমানের। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন নাহিদ ইসলাম। সমাবেশে সভাপতিত্ব করছেন জামায়াতে ইসলামীর বরিশাল অঞ্চল পরিচালক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়ায্যম হোসাইন হেলাল।
এ ছাড়া এলডিপির চেয়ারম্যান ড. কর্নেল অলি আহমদ (বীর বিক্রম), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার সহসভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আল্লামা আবদুল কাইয়ুম সুবহানী এবং বিডিপির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চাঁনসহ জোটের শীর্ষ নেতাদের বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।
সমাবেশ উপলক্ষে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীদের জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
এদিকে শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নওমালা ইউনিয়নের নগরের হাটে টোল ঘরের নির্মাণকাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানান।
দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় থাকা টোল ঘরটির সংস্কার ও আধুনিকায়নের দাবি ছিল স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে বলে অনুষ্ঠানে উল্লেখ করা হয়।
উদ্বোধনী বক্তব্যে ড. মাসুদ বলেন, “এটি জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বাস্তবায়িত একটি প্রকল্প। তাই এই কাজে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না। জনগণের প্রতিটি টাকার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।”
তিনি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নির্ধারিত মান বজায় রেখে কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন এবং স্থানীয় জনগণকে প্রকল্পের কার্যক্রম তদারকির আহ্বান জানান।
দুর্নীতির বিষয়ে কঠোর মন্তব্য করে তিনি বলেন, “আমরা ছোটবেলায় শুনেছি চোর-ডাকাতদেরও একটা ধর্ম আছে, তারা নিজের এলাকায় চুরি-ডাকাতি করে না। চোর আর ডাকাতরা যদি ইজ্জত বোঝে, তবে একজন ঠিকাদার, একজন ইঞ্জিনিয়ার কিংবা একজন এমপি হিসেবে আমাদের কি এলাকার ইজ্জত বোঝা উচিত না? তাহলে আমার এলাকায় রাস্তায় কেন দুর্নীতি হবে? কালভার্ট, ব্রিজে অথবা খালে কেন দুর্নীতি হবে? আমরা যেকোনো দুর্নীতির গলা টিপে ধরব। এক টাকা দুর্নীতি করে কেউ গিলে ফেললে তার পেট থেকে ওই টাকা খুঁজে বের করব, কথা পরিষ্কার।”
অনুষ্ঠানে নওমালার ব্যবসায়ী সহিদুল ইসলাম মৃধা, নওমালা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওলানা মকবুল আহমেদ, আদাবারিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের আমির কবির হোসেন, ঠিকাদার রেজাউল করিম, উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী ফয়সাল ফরাজিসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়নের উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করে আশা করেন, নতুন টোল ঘর নির্মিত হলে নগরের হাটের ব্যবসায়িক পরিবেশ আরও উন্নত হবে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে।
