সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর-কালীগঞ্জ আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় এবার বক্তব্য দিয়েছেন ভিডিওতে আলোচিত তরুণী মরিয়ম আক্তার এবং তার বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) প্রকাশিত পৃথক ভিডিওবার্তায় তারা দাবি করেন, গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে মরিয়ম আক্তারের বৈধ বৈবাহিক সম্পর্ক রয়েছে এবং ভাইরাল হওয়া ঘটনাটি তাদের সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে ছড়ানো হয়েছে।
ভিডিওবার্তায় মরিয়ম আক্তার বলেন, “আমরা যা করেছি, তা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বৈধ সম্পর্কের মধ্যেই করেছি। ভিডিওটি কিছু মানুষ ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমাদের সম্মানহানি ও হয়রানির উদ্দেশ্যে প্রচার করেছে।”
অন্যদিকে মরিয়মের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ জানান, গত ১৭ জুন তার বড় মেয়ে মরিয়ম আক্তারের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের বিয়ে সম্পন্ন হয়। তিনি দাবি করেন, গত ১৩ জুলাই যে স্থানে ভিডিও ধারণ করা হয়, সেখানে গাজী নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন। এ ঘটনাকে তিনি সামাজিকভাবে হেনস্তার চেষ্টা বলে উল্লেখ করেন এবং এর প্রতিবাদ জানান।
এর আগে সোমবার (২০ জুলাই) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে গাজী নজরুল ইসলামকে এক নারীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা যায়। ভিডিওটি প্রকাশের পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পর দেওয়া এক লিখিত বিবৃতিতে গাজী নজরুল ইসলাম জানান, গত ১৩ জুলাই তিনি তার প্রথম স্ত্রী মোসাম্মৎ মাকছুদা বেগম, দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম আক্তার এবং গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহকে নিয়ে মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহর মগবাজারের ব্যবসায়িক কার্যালয়ে যান। সেখানে অবস্থানকালে চালক ওবায়দুল্লাহ কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তিকে কার্যালয়ে প্রবেশের সুযোগ করে দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বিবৃতিতে বলা হয়, ওই ব্যক্তিরা তাদের পরিচয় জানতে চেয়ে নানা ধরনের হয়রানি করেন এবং পরে নিচে নিয়ে গিয়ে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। কিছু অর্থ পরিশোধের পর তারা সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন বলে দাবি করা হয়।
গাজী নজরুল ইসলামের অভিযোগ, ঘটনার নেপথ্যে তার গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহ জড়িত ছিলেন। তিনি দাবি করেন, ওবায়দুল্লাহ সম্পর্কে তার দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা এবং ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ওবায়দুল্লাহ পরে তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা এবং মাসুম বিল্লাহর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। অর্থ না পেয়ে তিনি কার্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজ ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন বলে অভিযোগ করা হয়।
গাজী নজরুল ইসলাম ঘটনাটিকে তার ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে ‘চরিত্রহননের অপচেষ্টা’ আখ্যা দিয়ে জড়িতদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
