ভারতের শীর্ষ ধনীদের সর্বশেষ তালিকায় আবারও প্রথম স্থান দখল করেছেন আদানি গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান গৌতম আদানি। সম্পদের হিসাবে তিনি রিলায়্যান্স গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানিকে পেছনে ফেলেছেন।
ব্রিটিশ গবেষণা সংস্থা হুরুন রিসার্চ ইনস্টিটিউট ২৩ সেপ্টেম্বর ‘এম৩এম হুরুন ইন্ডিয়া রিচ লিস্ট ২০২৬’ প্রকাশ করে। এতে অন্তত ১ হাজার কোটি রুপি সম্পদের মালিক ১ হাজার ৮১০ জন ভারতীয়কে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
হুরুনের তালিকা অনুযায়ী, গৌতম আদানি ও তাঁর পরিবারের সম্পদ গত এক বছরে ১৩ শতাংশ বেড়ে প্রায় ৯ দশমিক ২৩ লাখ কোটি রুপিতে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে মুকেশ আম্বানি ও তাঁর পরিবারের সম্পদ ১০ শতাংশ কমে হয়েছে ৮ দশমিক ৬৩ লাখ কোটি রুপি।
ফলে আদানি প্রায় ৫৯ হাজার ৪০০ কোটি রুপি সম্পদ নিয়ে আম্বানির চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। এ নিয়ে তৃতীয়বার ভারতের ধনীদের তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করলেন আদানি।
২০২২ সালে প্রথমবার আম্বানিকে পেছনে ফেলে হুরুনের তালিকায় শীর্ষে উঠেছিলেন আদানি। ২০২৩ সালে হিন্ডেনবার্গ রিসার্চের একটি প্রতিবেদনের পর আদানি গোষ্ঠীর শেয়ারে বড় ধরনের পতন দেখা যায়। এরপর ২০২৪ সালে আবারও হুরুনের তালিকায় শীর্ষস্থান ফিরে পান তিনি।
এবারের তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছেন আর্সেলর মিত্তলের প্রতিষ্ঠাতা লক্ষ্মীনিবাস মিত্তল। তাঁর ও পরিবারের সম্পদ গত এক বছরে ৯৩ শতাংশ বেড়ে ৩ দশমিক ৩৯ লাখ কোটি রুপিতে পৌঁছেছে।
আগের তালিকার তুলনায় আট ধাপ এগিয়েছেন মিত্তল। হুরুনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপের বাজারে ইস্পাতের দাম বাড়ার কারণে তাঁর ব্যবসায় সম্পদের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
তালিকায় নবম স্থানে রয়েছেন বেদান্ত রিসোর্সেসের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান অনিল অগ্রবাল। তাঁর সম্পদের পরিমাণ ২ দশমিক ০৮ লাখ কোটি রুপি। দশম স্থানে থাকা টরেন্ট ফার্মাসিউটিক্যালসের সমীর মেহতার সম্পদ ১ দশমিক ৮৯ লাখ কোটি রুপি।
হুরুনের তালিকা অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় ভারতের ধনীদের মোট সম্পদ গড়ে ১২ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। দেশটিতে হাজার কোটিপতির সংখ্যা এখন ৩৯১ জন। তাঁদের মধ্যে ৭৬ জন নতুন করে এই তালিকায় যুক্ত হয়েছেন।
মুম্বাইয়ে সবচেয়ে বেশি হাজার কোটিপতি রয়েছেন। শহরটিতে এ ধরনের ধনীর সংখ্যা ৪৬৫। এরপর রয়েছে নয়াদিল্লি ও বেঙ্গালুরু—যেখানে যথাক্রমে ২৩৬ ও ১২৯ জন হাজার কোটিপতি রয়েছেন।
এবারের তালিকায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইকে পৃথক একটি খাত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। হুরুনের তালিকাভুক্ত এআই কোম্পানিগুলোর ১৯ জন মালিকের সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ ৩ দশমিক ০৭ লাখ কোটি রুপি।
তাঁদের মধ্যে ১৫ জন নতুন করে হাজার কোটির ক্লাবে প্রবেশ করেছেন। ২৮ বছর বয়সী তনয় কোঠারি ও সহজ গর্গ ‘উইসপ্র ফ্লো’ নামের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রায় ৪ হাজার ২০০ কোটি রুপির সম্পদের মালিক হয়েছেন।
এআই খাতে নতুন ১৫ উদ্যোক্তার সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ ১ দশমিক ৮২ লাখ কোটি রুপি বলে জানিয়েছে হুরুন।
হুরুনের তালিকা অনুযায়ী, ভারতের হাজার কোটির ক্লাবে স্ব-প্রতিষ্ঠিত উদ্যোক্তার সংখ্যা এখন ১ হাজার ২৬৬। মোট ধনকুবেরের ৭০ শতাংশই স্ব-প্রতিষ্ঠিত, যা তালিকাটিতে রেকর্ড হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত এক বছরে নারী ধনকুবেরের সংখ্যাও বেড়েছে। ২০২৫ সালের ১০০ জন থেকে এবার এই সংখ্যা বেড়ে ১৩১ হয়েছে। নারী ধনীদের মধ্যে শীর্ষে রয়েছেন এইচসিএল করপোরেশনের রোশনি নাদার মলহোত্রা, যাঁর সম্পদের পরিমাণ ২ দশমিক ৭৯ লাখ কোটি রুপি।
এ ছাড়া অনাবাসী ভারতীয় ধনকুবেরের সংখ্যা বেড়ে ১৫৬ হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৯০ জন যুক্তরাষ্ট্রে এবং ৩১ জন সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাস করেন।
হুরুন জানিয়েছে, চলতি বছরের ২৪ আগস্ট পর্যন্ত সম্পদের তথ্য বিবেচনায় নিয়ে এবারের তালিকা তৈরি করা হয়েছে।
