নায়াসিনের ঘাটতিতে কমতে পারে শক্তি, বাড়তে পারে ত্বক ও স্নায়ুর জটিলতা
সুস্থ দেহ, কর্মক্ষম মস্তিষ্ক এবং শক্তিশালী রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা বজায় রাখতে ভিটামিন বি-৩ বা নায়াসিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের মতে, শরীরের বিপাকক্রিয়া সচল রাখা থেকে শুরু করে হৃদ্স্বাস্থ্য, স্নায়ুতন্ত্র এবং ত্বকের সুরক্ষায় এই ভিটামিনের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেহেতু এটি পানিতে দ্রবণীয় একটি ভিটামিন, তাই শরীর অতিরিক্ত নায়াসিন সংরক্ষণ করে রাখতে পারে না। ফলে প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসে পর্যাপ্ত ভিটামিন বি-৩ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
আমাদের দৈনন্দিন খাদ্য থেকে প্রয়োজনীয় শক্তি উৎপাদনের প্রক্রিয়ায় ভিটামিন বি-৩ গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হিসেবে কাজ করে। শরীরের কোষগুলোকে সক্রিয় রাখতে এবং বিপাকক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে নায়াসিন অপরিহার্য বলে মনে করেন পুষ্টিবিদরা। এর ঘাটতি দেখা দিলে ক্লান্তি, দুর্বলতা এবং কর্মক্ষমতা হ্রাসের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নায়াসিন রক্তে উপকারী কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়াতে এবং ক্ষতিকর কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইড কমাতে সহায়তা করতে পারে। এর ফলে হৃদ্রোগ এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমানোর ক্ষেত্রেও এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।
ভিটামিন বি-৩ স্নায়ুতন্ত্রকে সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ। এটি মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং মানসিক অবসাদ বা মনোযোগহীনতার মতো সমস্যার ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি ঘাটতি স্নায়বিক জটিলতার কারণও হতে পারে বলে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।
ত্বকের সুস্থতা রক্ষায়ও নায়াসিনের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। এটি সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে ত্বককে কিছুটা সুরক্ষা দিতে সাহায্য করে এবং কোষের স্বাভাবিক পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখে। শরীরে মারাত্মক ঘাটতি দেখা দিলে ‘পেলাগ্রা’ নামের একটি গুরুতর রোগের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, যার লক্ষণ হিসেবে ত্বকের সমস্যা, ডায়রিয়া ও মানসিক বিভ্রান্তি দেখা দিতে পারে।
পুষ্টিবিদদের মতে, প্রাণিজ ও উদ্ভিজ্জ—উভয় ধরনের খাদ্য থেকেই পর্যাপ্ত ভিটামিন বি-৩ পাওয়া সম্ভব।
- মুরগির মাংস
- গরু বা মুরগির কলিজা
- রুই, কাতলা, ইলিশ, মাগুর ও ভেটকি মাছ
- ডিম
- চিনাবাদাম
- সূর্যমুখীর বীজ
- মাশরুম
- সবুজ মটরশুঁটি
- লাল চাল
- নারকেল
যারা নিয়মিত প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করেন, তাদের শরীরে সাধারণত নায়াসিনের ঘাটতি কম দেখা যায়। কারণ প্রোটিনে থাকা ট্রিপটোফ্যান নামের অ্যামিনো অ্যাসিড যকৃতের মাধ্যমে ভিটামিন বি-৩-এ রূপান্তরিত হতে পারে। ফলে মাছ, মাংস, ডিম কিংবা ডালজাতীয় খাবার পর্যাপ্ত পরিমাণে গ্রহণ করলে শরীর স্বাভাবিকভাবেই প্রয়োজনীয় নায়াসিনের একটি অংশ তৈরি করতে সক্ষম হয়।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একক কোনো খাবারের ওপর নির্ভর না করে বৈচিত্র্যময় ও সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত শাকসবজি, ফল, প্রোটিন এবং ভিটামিনসমৃদ্ধ খাবার থাকলে শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করা সহজ হয়।
আধুনিক ব্যস্ত জীবনে সুস্থ ও কর্মক্ষম থাকতে ভিটামিন বি-৩-এর গুরুত্ব অনস্বীকার্য। শক্তি উৎপাদন, হৃদ্স্বাস্থ্য, মস্তিষ্কের কার্যকারিতা এবং ত্বকের সুরক্ষায় এই ভিটামিন কার্যকর ভূমিকা রাখে। তাই দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় নায়াসিনসমৃদ্ধ খাবার অন্তর্ভুক্ত করা সুস্বাস্থ্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।
