মালদ্বীপে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বাংলাদেশি আলোকচিত্রশিল্পী জিএমবি আকাশের একক আলোকচিত্র প্রদর্শনী ‘ইএমবিইআর’ (অঙ্গার)-২০২৬ শুরু হয়েছে। গ্যালারি ৩৫০ মালদ্বীপের আয়োজনে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত থেকে এ প্রদর্শনী শুরু হয়।
প্রদর্শনীতে বাংলাদেশসহ নেপাল, ভারত, পাকিস্তান ও অন্যান্য দেশের প্রান্তিক মানুষের জীবন ও গল্প আলোকচিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন জিএমবি আকাশ। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের সাধারণ ও প্রান্তিক মানুষের জীবন, সংগ্রাম ও মানবিক গল্প ক্যামেরায় ধারণ করে আসছেন তিনি।
প্রদর্শনীতে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের মানুষের দৈনন্দিন জীবন, শ্রম, পরিবার, সম্পর্ক, আনন্দ-বেদনা এবং প্রতিকূলতার মধ্যেও টিকে থাকার নানা মুহূর্ত স্থান পেয়েছে। এসব আলোকচিত্র দেখে মালদ্বীপের স্থানীয় নাগরিকদের পাশাপাশি সেখানে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরাও নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করেন।
তারা মালদ্বীপে এসে বাংলাদেশের প্রান্তিক মানুষের মানবিক জীবনের নানা দিক তুলে ধরার জন্য জিএমবি আকাশের প্রশংসা করেন।
গ্যালারি ৩৫০ মালদ্বীপে আয়োজিত প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে জাপানের রাষ্ট্রদূত, যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও শ্রীলঙ্কার কূটনৈতিক প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, মালদ্বীপের শিল্প ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিরা, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশি ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সদস্যরা অংশ নেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘ইএমবিইআর-অঙ্গার’ শুধু একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনী নয়; এটি বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মানুষের পারস্পরিক পরিচিতি, বোঝাপড়া ও মানবিক সংযোগ আরও গভীর করার একটি সুযোগ।
তিনি বলেন, শিল্প ও সংস্কৃতি বাংলাদেশের জনকূটনীতি ও সফট পাওয়ারের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এর মাধ্যমে কোনো দেশের পরিচয়, মূল্যবোধ, সমাজ ও জীবনযাত্রার গল্প প্রাতিষ্ঠানিক কূটনৈতিক যোগাযোগের পাশাপাশি মানুষের অনুভূতি ও মানবিক অভিজ্ঞতার মাধ্যমেও বিশ্বের কাছে তুলে ধরা যায়।
হাইকমিশনার আরও বলেন, বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের সম্পর্ক শুধু সরকার-থেকে-সরকার যোগাযোগ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা কিংবা মানুষের যাতায়াতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; দুই দেশের সমাজ, জনগোষ্ঠী ও মানুষের মধ্যকার সম্পর্কও এর অংশ।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, শিল্প এমন একটি সেতু তৈরি করতে পারে, যেখানে ভাষা বা আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক যোগাযোগ অনেক সময় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। একটি আলোকচিত্র সীমান্ত, ভাষা ও জাতীয় পরিচয়ের সীমারেখা পেরিয়ে মানুষের মধ্যে মানবিক সংযোগ তৈরি করতে পারে। এ কারণে মালদ্বীপের সঙ্গে বাংলাদেশের বৃহত্তর সম্পর্ক উন্নয়নে সাংস্কৃতিক কূটনীতিকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন তিনি।
এ ধরনের উদ্যোগ বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময় ও পারস্পরিক বোঝাপড়া আরও সমৃদ্ধ করতে ভূমিকা রাখবে বলেও মনে করেন হাইকমিশনার।
আলোকচিত্রশিল্পী জিএমবি আকাশ বলেন, মালদ্বীপের মতো দেশে তার একক আলোকচিত্র প্রদর্শনী ‘অঙ্গার’ উপস্থাপন করতে পেরে তিনি আনন্দিত। এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে বিশ্বের অপেক্ষাকৃত আড়ালে থাকা মানুষের জীবন সবার সামনে তুলে ধরাই তার অন্যতম বৈশিষ্ট্য বলে জানান তিনি।
২০ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া প্রদর্শনীটি আগামী ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। শিল্প ও আলোকচিত্রপ্রেমীসহ মালদ্বীপের সর্বস্তরের দর্শকদের প্রদর্শনীটি পরিদর্শনের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশন।
