বাংলাদেশে এক অস্ট্রেলীয় নারীর রহস্যজনক মৃত্যুর তদন্ত প্রভাবিত করার অভিযোগে প্রায় ৮০ লাখ টাকা ঘুষ দেওয়ার চেষ্টা করার ঘটনায় অস্ট্রেলিয়ায় এক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ। অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ (এএফপি) জানিয়েছে, ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের জন্য কোনো বিদেশি কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে অস্ট্রেলিয়ায় এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক মামলা।
গ্রেপ্তার আওলাদ হোসেনের বয়স ৫১ বছর। তিনি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অস্ট্রেলীয় নাগরিক এবং কুইন্সল্যান্ডের রেডব্যাঙ্ক প্লেইনস এলাকার বাসিন্দা। সোমবার গুডনা ও রেডব্যাঙ্ক প্লেইনস এলাকার দুটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করে পুলিশ।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, বাংলাদেশে নিহত নারী রেহেনা পারভিন ছিলেন আওলাদ হোসেনের স্ত্রী। নিজের নাম বাংলাদেশ পুলিশের নথি থেকে বাদ দেওয়া এবং তাঁর মৃত্যুর তদন্ত প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে আওলাদ বাংলাদেশে প্রায় ৮০ লাখ টাকা পাঠিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার তদন্তের সূত্রপাত হয় ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে। অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা রেহেনা পারভিন নিখোঁজ হওয়ার পর কুইন্সল্যান্ড পুলিশ বিষয়টি অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশকে জানায়। এর পরদিন বাংলাদেশে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় পুলিশ। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে তাঁর মৃত্যুকে অস্বাভাবিক ও রহস্যজনক হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
বিদেশে কোনো অস্ট্রেলীয় নাগরিকের অস্বাভাবিক মৃত্যু বা হত্যাকাণ্ডের ঘটনা তদন্তের এখতিয়ার অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশের রয়েছে। সেই ক্ষমতাবলে তারা নিজস্ব তদন্ত শুরু করে। পাশাপাশি বাংলাদেশ পুলিশও পৃথক তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছিল।
তদন্তের অংশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়ান পুলিশ সিডনি ও ব্রিসবেনের বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালিয়ে লেনদেনের ব্যাংকিং নথি জব্দ করে। পুলিশের দাবি, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দুই বছর ধরে বাংলাদেশে অর্থ পাঠিয়ে তদন্ত ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন আওলাদ হোসেন।
গ্রেপ্তারের সময় তাঁর বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া বিভিন্ন নথিপত্র ও আলামতও যাচাই করছে অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ।
অস্ট্রেলিয়ার কমনওয়েলথ ফৌজদারি আইনে বিদেশি সরকারি কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে আওলাদ হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এই অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশের কমান্ডার স্টিফেন জে বলেন, অস্ট্রেলিয়া বা বিদেশে কোনো অপরাধের তদন্তপ্রক্রিয়া ঘুষের মাধ্যমে প্রভাবিত করার চেষ্টা গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ। এ ধরনের কাজে জড়িত ব্যক্তিদের জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে রেহেনা পারভিনের মৃত্যুর কারণ উদ্ঘাটনে অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশ—দুই দেশেই তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
