ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে ১১ দলীয় ঐক্যের দ্বিতীয় দফার লংমার্চে বিভিন্ন স্থানে সমাবেশ ও পথসভা হয়েছে। এসব কর্মসূচিতে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানসহ জোটের নেতারা গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ ঘোষিত আট দফা দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তাদের আট দফা দাবি মেনে না নেওয়া হলে তা এক দফায় পরিণত হতে পারে। জনগণের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।
১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, দলীয়করণ বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন।
রোববার সকাল ৭টায় রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে উদ্বোধনী সমাবেশের পর সকাল ৮টায় রংপুরের উদ্দেশে গাড়িবহর যাত্রা শুরু করে। পথে গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস, টাঙ্গাইলের নগর জলফৈ বাইপাস, সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল মোড়, বগুড়ার মাটিডালী বিমান মোড় এবং গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। পরে রংপুরের জিলা স্কুল মাঠে সমাপনী সমাবেশ হয়।
লংমার্চকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন স্থানে নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতির কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। রাজধানী থেকে গাজীপুর ও টাঙ্গাইলের বিভিন্ন এলাকায় নারীদেরও রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে লংমার্চকে অভিবাদন জানাতে দেখা যায়।
ডা. শফিকুর রহমান দাবি করেন, তাদের আন্দোলন কোনো দলীয় দাবি নিয়ে নয়; বরং গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও বিভিন্ন জনদাবি আদায়ের জন্য। তিনি সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, দখলদারি, জ্বালানি সংকট ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে অভিযোগ করেন।
এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামও সরকারের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও দলীয়করণের অভিযোগ তোলেন। তিনি সরকারের মেয়াদ নিয়ে রাজনৈতিক মন্তব্য করেন এবং সামনে কঠিন লড়াইয়ের কথা বলেন।
এলডিপির প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুসহ অন্যান্য নেতারাও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও আট দফা দাবি পূরণের আহ্বান জানান।
গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাসের পথসভায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গ্যাস সরবরাহ, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, সার সংকট দূর করা, চাঁদাবাজি বন্ধ, দুর্নীতিমুক্ত দেশ এবং আইনশৃঙ্খলার উন্নয়নের দাবিতে তারা লংমার্চ করছেন। তিনি দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেন।
টাঙ্গাইলের পথসভায় তিনি আন্দোলনকে জনগণের দাবি আদায়ের লড়াই হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ভবিষ্যতে ঢাকা অভিমুখী লংমার্চের প্রস্তুতির কথাও বলেন।
সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুলে অনুষ্ঠিত সমাবেশেও ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা সরকারের বিভিন্ন নীতির সমালোচনা করেন এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি জানান।
বগুড়ার মাটিডালী বিমান মোড়ের সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের অধিকার ও দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথে থাকবেন। তিনি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন।
