পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন, গত ১৭ বছরে দেশের মানুষ স্বাধীনভাবে কথা বলার সুযোগ পায়নি এবং বিরোধী রাজনৈতিক কর্মী-সমর্থকদের নানা ধরনের নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হয়েছে। শনিবার ফরিদপুরের নগরকান্দায় এক সামাজিক সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার ডাঙ্গী ইউনিয়নের ভাবুকদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জেলা পুলিশের উদ্যোগে আয়োজিত ‘শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও প্রগতি’ শীর্ষক সামাজিক সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
বক্তব্যে তিনি বলেন, “গত ১৭ বছর স্বৈরাচারী সরকার মানুষকে কথা বলতে দেয়নি। পদে পদে বাধা দিয়েছে। আমাদের নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণ মিথ্যা মামলার জন্য ঘরে থাকতে পারে নাই। কোর্টে গিয়ে ঘুরতে হয়েছে। জেলে যেতে হয়েছে। নানা রকমের অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দেশ গণতন্ত্রের পথে ফিরে এসেছে। তাঁর ভাষ্য, “দীর্ঘ সংগ্রামের পর ফ্যাসিবাদ ও আন্দোলন পার করে একটি সুষ্ঠু ভোটের মধ্যদিয়ে গণতন্ত্রের পথে আমরা হাটতে শুরু করেছি। এখন কিন্তু আর সেই সমস্যা নেই।”
রাজনীতিতে প্রতিহিংসার পরিবর্তে জনসেবার ওপর গুরুত্বারোপ করে শামা ওবায়েদ বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না। আমার বাবা কে এম ওবায়দুর রহমানও প্রতিহিংসার রাজনীতি পছন্দ করতেন না।” তিনি বলেন, দল-মত নির্বিশেষে মানুষের সেবা করাই তাঁর পরিবারের রাজনৈতিক আদর্শ। সেই ধারাবাহিকতায় গত ১৭ বছর তিনি সবার পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন বলেও উল্লেখ করেন।
সামাজিক সমস্যা মোকাবিলায় সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ইভটিজিং, বাল্যবিবাহ ও আত্মহত্যার মতো সমস্যাগুলো প্রতিরোধে প্রশাসনের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি এবং সাধারণ জনগণের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। তিনি বলেন, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান গড়ে তোলা গেলে অপরাধ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
স্থানীয় বিরোধ ও সামাজিক সংঘাত নিরসনে পারস্পরিক সহনশীলতা এবং সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় রাখারও আহ্বান জানান তিনি। তাঁর মতে, জনগণ ও প্রশাসনের মধ্যে আস্থা ও সহযোগিতা বৃদ্ধি পেলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে।
এর আগে দিনব্যাপী সফরের অংশ হিসেবে শামা ওবায়েদ ইসলাম অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত একটি পরিবারকে পরিদর্শন করেন। এছাড়া সম্প্রতি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত দুই ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সমবেদনা জানান এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
