গ্রীষ্মকালীন মহড়া পরিদর্শনে সেনাসদস্যদের সঙ্গে সময় কাটালেন তারেক রহমান
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পেশাদার সক্ষমতা, শৃঙ্খলা ও জাতীয় দায়িত্ব পালনের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের মানুষ সেনাবাহিনীর প্রতি গভীর আস্থা ও বিশ্বাস পোষণ করে। জাতীয় নিরাপত্তা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে বাহিনীটির অবদান জনগণের কাছে বিশেষভাবে স্বীকৃত। তিনি সেনাবাহিনীর সদস্যদের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি ও নিয়মিত প্রশিক্ষণ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
মঙ্গলবার সকালে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৯ পদাতিক ডিভিশনের অধীন পরিচালিত গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ মহড়া আকস্মিকভাবে পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
সফরকালে প্রধানমন্ত্রী প্রশিক্ষণ এলাকার বিভিন্ন অংশ পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্ট সামরিক কর্মকর্তাদের কাছ থেকে চলমান মহড়া, অপারেশনাল কৌশল এবং যুদ্ধ প্রস্তুতি সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত হন।
তিনি সেনাসদস্যদের পরিচালিত অভিযানের অনুশীলন, আক্রমণ ও প্রতিরক্ষা কৌশল, সমরাস্ত্র ব্যবহারের দক্ষতা এবং বাস্তবধর্মী প্রশিক্ষণের বিভিন্ন দিক সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। মহড়ার অংশ হিসেবে পরিচালিত একটি বিশেষ রেইড অনুশীলনও প্রত্যক্ষ করেন তিনি।
পরিদর্শনের একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি সেনা বাঙ্কারে গিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে কৌশলগত বিষয়ে মতবিনিময় করেন। মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনরত সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাদের অভিজ্ঞতা ও কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
এ সময় ছদ্মবেশে অবস্থানরত সেনাসদস্যদের সঙ্গেও তিনি কথা বলেন এবং দায়িত্ব পালনে তাদের উৎসাহিত করেন। সেনা সদস্যদের মনোবল ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী।
পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রী মহড়ায় অংশগ্রহণকারী সেনাসদস্যদের জন্য প্রস্তুত করা তাৎক্ষণিক রান্না করা খাবার গ্রহণ করেন। পরে তাদের সঙ্গে চা পান করে অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় অংশ নেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের সদস্যদের সঙ্গে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেতৃত্বের সরাসরি যোগাযোগ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের একটি ইতিবাচক বার্তা উঠে এসেছে।
সেনাসদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জাতীয় সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছে। জনগণের আস্থা ধরে রাখতে পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও দক্ষতা আরও জোরদার করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি নিয়মিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পুনরায় পূর্ণমাত্রায় পরিচালিত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে সেনাবাহিনীর সক্ষমতা আরও বৃদ্ধির প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক যুদ্ধ কৌশল ও পরিবর্তিত বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর নিয়মিত মহড়া ও বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের প্রশিক্ষণ বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ও কার্যকর প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করতে সহায়তা করে।
মানিকগঞ্জে সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া পরিদর্শনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতি কার্যক্রমের প্রতি সরকারের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছেন। একই সঙ্গে সেনাসদস্যদের মনোবল বৃদ্ধি এবং জনগণের আস্থার প্রতিফলন হিসেবেও এ সফরকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
