স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অযোগ্য ঘোষণার প্রস্তাব গ্রহণ করছে না নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে দ্বৈত নাগরিক, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগপত্রভুক্ত ব্যক্তি, ঋণখেলাপির জামিনদার এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থিতা সীমিত করার সুপারিশ সরকারের কাছে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাবে সায় দেয়নি নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে না হওয়ায় রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে নির্বাচন থেকে বিরত রাখার সুযোগ নেই।
মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন-সংক্রান্ত বিভিন্ন আইন ও বিধিমালার সংশোধনী প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা এবং ইউনিয়ন পরিষদ—এই পাঁচ ধরনের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের আইন ও বিধিমালা সংশোধনের বিষয় পর্যালোচনা করা হয়। সংশোধনী প্রস্তাবগুলো পরবর্তী অনুমোদনের জন্য সরকারের কাছে পাঠানো হবে।
এর আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পদধারী ও সক্রিয় নেতাকর্মীদের প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য ঘোষণা করার বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছিল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
এ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় হওয়ায় কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখার এখতিয়ার কমিশনের নেই। তিনি বলেন, “যোগ্যতার শর্ত পূরণ করলে যে কেউ প্রার্থী হতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হবে না।”
তিনি আরও জানান, বিভিন্ন আইন ও বিধিমালার সংশোধনী নিয়ে কমিশনের আলোচনার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পাশাপাশি রাজনৈতিক দল ও অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা আচরণবিধির খসড়াও অনুমোদন পেতে পারে।
ইসির সংশোধনী প্রস্তাব অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগপত্রভুক্ত ব্যক্তিরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। তবে ট্রাইব্যুনাল থেকে অব্যাহতি বা খালাস পেলে সেই অযোগ্যতা বহাল থাকবে না।
এ ছাড়া দ্বৈত নাগরিকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ না রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। সংবিধান ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে সংসদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিধিনিষেধের আলোকে এ প্রস্তাব আনা হয়েছে।
একই সঙ্গে ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের অংশীদার পরিচালক এবং ঋণখেলাপিদের জামিনদারদেরও নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া এমপিওভুক্ত স্কুল ও কলেজের শিক্ষকদের নির্বাচনে অংশ নিতে হলে চাকরি থেকে অব্যাহতি নেওয়ার বিধান যুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।
নির্বাচনী আপিল ট্রাইব্যুনাল বর্তমানে দুই সদস্যের পরিবর্তে উচ্চ আদালতের একজন বিচারপতির নেতৃত্বে গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের মতে, এতে আপিল নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া দ্রুততর হবে এবং আইনি জটিলতা কমবে।
এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করা, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য মোট ভোটারের ১ শতাংশ সমর্থনসূচক স্বাক্ষরের বাধ্যবাধকতা বাতিল করা, জামানতের পরিমাণ বৃদ্ধি এবং হলফনামায় ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান করলে প্রার্থিতা বাতিলের বিধান যুক্ত করার প্রস্তাবও আলোচনায় রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের এসব প্রস্তাব চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সরকারের কাছে পাঠানো হবে।
