ছয় দফা দাবিতে ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে শান্তিপূর্ণ লংমার্চের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। কর্মসূচিতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) অংশ নেবে এবং জ্বালানি সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির বিষয় বিবেচনায় গাড়ির সংখ্যা কমিয়ে প্রায় ১ হাজারে নামানোর কথা জানিয়েছে দলটি।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দলের সদস্য সচিব আখতার হোসেন এ তথ্য জানান। এর আগে লংমার্চের প্রস্তুতি ও অংশগ্রহণ নিয়ে দলটির সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
লংমার্চের ঘোষিত ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করা।
১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বৃহস্পতিবার রাতে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে লংমার্চ সফল করার জন্য নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শনিবার সকাল ৭টায় ঢাকার শাপলা চত্বরে জনসভার মধ্য দিয়ে লংমার্চ শুরু হবে। পরে গাড়িবহর চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা করবে এবং কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে সমাবেশের মাধ্যমে তা শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সংবাদ সম্মেলনে জানান, প্রথমে লংমার্চে পাঁচ থেকে ছয় হাজার গাড়ি রাখার পরিকল্পনা থাকলেও জ্বালানি সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় তা কমিয়ে ১ হাজার গাড়ি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সকাল ৭টা থেকে ৮টা পর্যন্ত শাপলা চত্বরে উদ্বোধনী কর্মসূচি ও শীর্ষ নেতাদের বক্তব্য থাকবে। এরপর গাড়িবহর যাত্রা শুরু করবে।
এনসিপির দেওয়া কর্মসূচির সূচি অনুযায়ী, ঢাকা থেকে যাত্রার পর সকাল ৯টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের চিটাগাং রোড ট্রাকস্ট্যান্ডে প্রথম পথসভা হওয়ার কথা রয়েছে।
এরপর দুপুর ১২টার দিকে কুমিল্লায় কর্মসূচি হবে। সেখানে খাবারের ব্যবস্থাও থাকবে। বিকেল ৩টার দিকে ফেনীর মহিপালে এবং পরে মীরসরাইয়ে কর্মসূচি পালনের কথা জানিয়েছে দলটি।
সন্ধ্যার পর গাড়িবহর চট্টগ্রামে পৌঁছানোর কথা। সেখানে রাত ৯টার দিকে পলোগ্রাউন্ড ময়দানে সমাবেশে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, লংমার্চে মানুষের দুর্ভোগ কমাতে গাড়িবহর একটি নির্দিষ্ট লাইনে চলবে। অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি যানবাহন যাতে আটকে না পড়ে, সেদিকেও নজর রাখা হবে বলে জানান তিনি।
লংমার্চ সফল করার লক্ষ্যে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় প্রচারপত্র বিতরণ করেছে জামায়াতে ইসলামী। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিনের নেতৃত্বে গোলাপ শাহ মাজার মসজিদ থেকে গুলিস্তান এলাকায় লিফলেট বিতরণ করা হয়।
এ ছাড়া ঢাকা মহানগরী উত্তর হাতিরঝিল অঞ্চলের উদ্যোগে কাওরান বাজার, তেজগাঁও ট্রাকস্ট্যান্ড ও সাতরাস্তা এলাকায়ও প্রচারপত্র বিতরণ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আখতার হোসেন দাবি করেন, দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনভোগান্তি বেড়েছে। তিনি বলেন, সরকার জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বাড়ালেও লোডশেডিং কমেনি। তার দাবি, গ্রামাঞ্চলের কোনো কোনো এলাকায় দিনে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে।
গ্যাস সংকটের কারণে শিল্প-কারখানার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও রাহাজানির মতো ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নাজুক বলে মন্তব্য করেন এনসিপির এই নেতা।
আখতার হোসেন বলেন, জনভোগান্তি কমানো এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই তারা লংমার্চে অংশ নিচ্ছেন। হামলা হলেও কর্মসূচি ঠেকানো যাবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, লংমার্চে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, এলডিপি প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা নেতৃত্ব দেবেন।
এদিকে বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের কার্যালয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। এতে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, জনগণের মতামত ও গণরায় উপেক্ষা করা উচিত নয়।
চট্টগ্রামের সংবাদ সম্মেলনে মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আমির আনোয়ারুল আলম চৌধুরীসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন দলের স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
