ভারতের মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনে ঐতিহাসিক শাহি মসজিদ ভাঙার প্রস্তাবের বিরোধিতা করে দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে মসজিদের ভেতরে অবস্থান করছেন স্থানীয় মুসলিমরা। আল-জাজিরার বরাত দিয়ে যুগান্তর জানিয়েছে, মসজিদটি প্রায় ৬০০ বছরের পুরোনো।
গত রোববার মধ্যরাতে মসজিদে বুলডোজার চালানোর চেষ্টা করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন ছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা সেখানে জড়ো হলে অভিযান বন্ধ হয়ে যায়।
২০২৮ সালের সিংহস্থ কুম্ভকে সামনে রেখে উজ্জয়িনে সড়ক সম্প্রসারণের একটি প্রকল্প চলছে। ওই প্রকল্পের অংশ হিসেবে শাহি মসজিদের একটি অংশ ভেঙে ফেলার জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। মসজিদটি মহাকালেশ্বর মন্দিরের বিপরীতে এবং ক্ষিপ্রা নদীর কাছে অবস্থিত। সড়কটি ১৫ মিটার প্রশস্ত করার জন্য মসজিদের একটি অংশ ভাঙার প্রস্তাব করা হয়েছে।
মসজিদের ভেতরে অবস্থান নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দা তৌকীর খান জানান, দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে মানুষ পালা করে সেখানে অবস্থান করছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজও সেখানে আদায় করা হচ্ছে।
তিনি আরও দাবি করেন, বুলডোজার আনা হলেও মসজিদের ভেতরে ও বাইরে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হওয়ায় অভিযান থেমে যায়।
মসজিদটি নিয়ে বিরোধের মধ্যে বিষয়টি দেখভালের জন্য ১১ সদস্যের ‘মসজিদ নুমাইন্দা কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মানুষ পালা করে মসজিদের ভেতরে অবস্থান করছেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
ইন্দোরের আলেম মুফতি জুনাইদ এ ঘটনায় মসজিদটি রক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন। তাঁর অভিযোগ, কুম্ভ উপলক্ষে শহরের উন্নয়ন ও সড়ক সম্প্রসারণের কারণে উজ্জয়িনের আরও কয়েকটি পুরোনো মসজিদও ঝুঁকিতে রয়েছে। তিনি দাবি করেন, এর আগে তাখিয়া মসজিদ নিয়েও প্রশাসনের সঙ্গে বিরোধ হয়েছিল এবং পরে সেটি ভেঙে দেওয়া হয়।
প্রস্তাবিত ভাঙার বিরুদ্ধে মসজিদ কর্তৃপক্ষ সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। এর আগে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট উজ্জয়িন পৌর করপোরেশনের ভাঙার নোটিশের বিরুদ্ধে করা দুটি আবেদন খারিজ করে।
আদালত বলেছে, প্রস্তাবিত পদক্ষেপ প্রযোজ্য আইনি বিধান মেনেই নেওয়া হয়েছে এবং মসজিদ পরিচালনাকারীদের শুনানির সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। সংবিধানের ১৪, ২৫, ২৬ ও ৩০০এ অনুচ্ছেদ লঙ্ঘনের দাবিও আদালত নাকচ করেছে।
মসজিদ কর্তৃপক্ষের দাবি, শাহি মসজিদটি দীর্ঘদিনের পুরোনো এবং এর অস্তিত্বের পক্ষে ১৯২৫ সালের একটি চিঠি ও ১৯৮৫ সালের মধ্যপ্রদেশ সরকারের গেজেট বিজ্ঞপ্তিসহ কিছু নথি রয়েছে। এসব নথিতে মসজিদ ও এর জমির বিষয়ে তথ্য রয়েছে বলে কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রোটেকশন অব সিভিল রাইটসের আইনজীবী জায়েদ পাঠান জানিয়েছেন, ‘মসজিদ নুমাইন্দা কমিটি’ হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
এদিকে মসজিদ রক্ষা ও প্রস্তাবিত ভাঙার প্রতিবাদে মানুষ অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিবেদনের সময় অন্তত এক হাজার মানুষ জোহরের নামাজ শেষে মসজিদের ভেতরে অবস্থান করছিলেন বলে জানানো হয়েছে। পালা করে মানুষের সংখ্যা পরিবর্তিত হলেও সেখানে সব সময় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ অবস্থান করছেন।
