কান চলচ্চিত্র উৎসবের আনুষ্ঠানিক পর্ব শেষ হলেও সাবেক বিশ্বসুন্দরী ও বলিউড অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনের ফ্যাশন নিয়ে আলোচনা থামেনি। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ফ্যাশন হাউস টনি ওয়ার্ড কতুর তাঁর একটি নতুন লুক প্রকাশ করলে সেটি আবারও ফ্যাশনপ্রেমীদের নজর কাড়ে। বিশেষ এই গাউনটি সাত হাজারেরও বেশি মুক্তা দিয়ে তৈরি করা হয়েছে।
আইভরি-সাদা রঙের স্ট্র্যাপলেস গাউনটি তৈরি করেছেন লেবাননের খ্যাতনামা ডিজাইনার টনি ওয়ার্ড। পোশাকটির বডিসজুড়ে হাতে বসানো হয়েছে সাত হাজারের বেশি মুক্তা। ত্রিমাত্রিক নকশায় নির্মিত এই গাউনের ডিজাইনে সমুদ্রের ঢেউয়ের গতিময়তা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, যা একে অনন্য মাত্রা দিয়েছে।
ফ্যাশন হাউসটির তথ্য অনুযায়ী, গাউনটি তৈরিতে প্রায় ৬০০ ঘণ্টা সময় লেগেছে। এতে ব্যবহার করা হয়েছে প্রায় ৪০ মিটার আইভরি সিল্ক ট্যাফেটা। কাঁধজুড়ে ভলিউমিনাস রাফল বা ঢেউখেলানো ভাঁজ পোশাকটিকে ফুলের পাপড়ির মতো নান্দনিক রূপ দিয়েছে। সূক্ষ্ম কারুশিল্প ও নিখুঁত নকশার কারণে এটি হাই-ফ্যাশনের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
চমকপ্রদ গাউনের সঙ্গে ঐশ্বরিয়া বেছে নিয়েছেন মিনিমালিস্ট স্টাইলিং। পোশাকের সৌন্দর্যকে গুরুত্ব দিতে তিনি ভারী গয়না ব্যবহার করেননি। কানে ছিল লম্বা হিরার দুল এবং হাতে একটি বড় ডায়মন্ড রিং।
মেকআপেও ছিল সংযত আভিজাত্য। উজ্জ্বল ত্বক, হালকা শিমারি আইশ্যাডো এবং নিউড-গোলাপি লিপস্টিকের মাধ্যমে তিনি নিজের পরিচিত ‘সফট গ্ল্যাম’ লুক বজায় রেখেছেন। চুলে ছিল সাইড-পার্টেড সফট ওয়েভি স্টাইল, যা তাঁর পুরো সাজে ধ্রুপদি হলিউড গ্ল্যামারের ছোঁয়া যোগ করেছে।
ফ্যাশন বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সময়ের ‘কোয়ায়েট লাক্সারি’ বা পরিমিত বিলাসিতার ধারার একটি সফল উদাহরণ এই পোশাক। জাঁকজমকের পরিবর্তে সূক্ষ্ম কারুশিল্প ও পরিশীলিত উপস্থাপনাই এখানে মূল আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।
কয়েক দশক ধরে কান চলচ্চিত্র উৎসবের নিয়মিত আকর্ষণ ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন। ২০২৬ সালের উৎসবেও নীল মারমেড গাউন এবং সাদা ট্যাক্সিডো লুকে প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন তিনি। তবে সাত হাজার মুক্তা দিয়ে তৈরি টনি ওয়ার্ডের এই বিশেষ গাউন তাঁর দীর্ঘদিনের স্টাইল আইকন পরিচয়কে আরও শক্তিশালী করেছে বলে মনে করছেন ফ্যাশনসংশ্লিষ্টরা।
