আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট বন্ধ করে হত্যাযজ্ঞের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের একপর্যায়ে সংশোধনী গ্রহণে আপত্তি জানিয়েছেন সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমি শুধু ন্যায়বিচার প্রার্থনা করছি। আমি আল্লাহর ওপর ভরসা করি। কোনো চালাকির কাছে নয়।’
সোমবার ট্রাইব্যুনালের আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। এদিন মামলায় অষ্টম সাক্ষী হিসেবে এক শিক্ষার্থী সাক্ষ্য দেন। নিরাপত্তাজনিত কারণে তাঁর নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। ট্রাইব্যুনাল-১-এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
সাক্ষী তাঁর জবানবন্দিতে জানান, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে তিনি আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন। ৫ আগস্ট দুপুর ২টার পর শেখ হাসিনার পতনের খবর পান তিনি ও তাঁর বন্ধুরা। এরপর তাঁরা রাজধানীর উত্তরায় বিজয় মিছিলে অংশ নেন। ওই দিন নিজের চোখের সামনে কয়েকজনকে গুলিবিদ্ধ হতে দেখেছেন বলেও সাক্ষ্যে উল্লেখ করেন তিনি।
সাক্ষীর জবানবন্দি শেষ হওয়ার পর তাতে একটি সংশোধনী আনার আবেদন করে প্রসিকিউশন। এর বিরোধিতা করে আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আদালতের কাছে আবেদন জানান জুনাইদ আহমেদ পলক।
তিনি বলেন, ‘মাননীয় আদালত, এ মুহূর্তে কোনো সংশোধনী না নেওয়ার জন্য বিনীত অনুরোধ করছি। খুব সুন্দরভাবে সাক্ষ্য সম্পন্ন করেছে প্রসিকিউশন। মাননীয় আদালতও মূল্যবান সময় দিয়েছেন। অতএব আমার অনুরোধ সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আর কোনো সংশোধনী যেন না নেওয়া হয়।’
এরপরই তিনি ন্যায়বিচারের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরে বলেন, ‘আমি শুধু ন্যায়বিচার প্রার্থনা করছি। আমি আল্লাহর ওপর ভরসা করি। কোনো চালাকির কাছে নয়।’
পরে পলকের পক্ষে সাক্ষীকে জেরা শুরু করেন তাঁর আইনজীবী লিটন আহমেদ।
ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। তাঁর সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর আবদুস সোবহান তরফদার, মার্জিনা রায়হান, মামুনুর রশিদ ও আবদুল্লাহ আল নোমান।
ইন্টারনেট বন্ধ করে হত্যাযজ্ঞের অভিযোগে করা এ মামলায় জুনাইদ আহমেদ পলকের পাশাপাশি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কেও আসামি করা হয়েছে। পলাতক থাকায় জয়ের পক্ষে রাষ্ট্রের খরচে নিয়োগ পাওয়া স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী মনজুর আলম আইনি লড়াই করছেন।
