জনপ্রশাসনকে ঢেলে সাজাতে শিগগিরই ‘জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন’ গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান। সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে সোমবার আয়োজিত এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র ‘শাপলা’য় আয়োজিত অনুষ্ঠানে নজরুল ইসলাম খান বলেন, কমিশনকে সহায়তাকারী ব্যক্তিদের নিয়ে কিছু সমস্যা রয়েছে। সেগুলো সমাধান না করে কমিশন গঠন করলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না। এ কারণেই কিছুটা সময় লাগছে। তবে শিগগিরই কমিশন গঠন করা হবে বলে তিনি জানান।
প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিহউল্লাহ বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠনের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, সরকার সেই অবস্থান থেকে সরে যায়নি। বরং সেই লক্ষ্যেই কাজ এগিয়ে চলছে। এরই মধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে কয়েকটি কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, আগের সরকারের অনুগত কিছু ব্যক্তি এখনো প্রশাসনে রয়েছেন। তাঁদের চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট জায়গা থেকে সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
ইসমাইল জবিহউল্লাহ আরও বলেন, এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না, যাতে দেশ ও জাতির ক্ষতি হয়। একই সঙ্গে প্রশাসনে যে দলীয়করণ হয়েছে, সেখান থেকেও বেরিয়ে আসতে হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জনপ্রশাসন সংস্কার নিয়ে যে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছিল, সেটিও পর্যালোচনা করা হয়েছে। খুব শিগগির আনুষ্ঠানিকভাবে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করা হবে।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানান, গণমাধ্যম কমিশন গঠনের প্রক্রিয়াও এগিয়ে চলছে। তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেওয়া গণমাধ্যমসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাব অনুভব না করার কথা জানিয়েছেন এবং এ জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
এই ব্যবস্থাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে গণমাধ্যম কমিশন গঠনের বিষয়ে সরকারের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের আগ্রহের কোনো অমিল নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এ-সংক্রান্ত আলোচনা প্রায় শেষ পর্যায়ে। এরপর একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হবে। ওই গ্রুপ জাতীয় কর্মপরিকল্পনার (ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান) খসড়া তৈরি করবে। পরে সেটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নোত্তর পর্বের আগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহাদী আমিন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ১৮০ দিনে বিভিন্ন কার্যক্রম ও সাফল্যের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান ও রুহুল কবির রিজভী, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, পরিবেশ, বন ও জলবায়ুবিষয়ক বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক এস এম আবদুল আউয়াল উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিশেষ সহকারী রাশেদ খাঁন, তথ্য ও সম্প্রচারসচিব মাহবুবা ফারজানা, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমেদ, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাছির জামালসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ও সাংবাদিক নেতারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
