ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ক্যামেরায় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্ত করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা কার্যক্রম শুরুর প্রথম সাত ঘণ্টায় ৪২৯টি মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এসব মামলা করা হয়।
হাইওয়ে পুলিশের কুমিল্লা রিজিয়নের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহিনুর আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এআই ক্যামেরায় বিভিন্ন ধরনের ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত হওয়ার পর স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়ায় মামলাগুলো করা হয়েছে।
হাইওয়ে পুলিশ সূত্র জানায়, ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে চট্টগ্রাম সিটি গেট পর্যন্ত প্রায় ২৫০ কিলোমিটার মহাসড়ক এআই ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। মহাসড়কের ৪৯০টি পয়েন্টে বসানো হয়েছে মোট ১ হাজার ৪২৭টি ক্যামেরা। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যানবাহনের নম্বর প্লেট শনাক্ত করা সম্ভব।
ক্যামেরায় অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো, নির্ধারিত লেন ব্যবহার না করা, ঝুঁকিপূর্ণভাবে ওভারটেকিং, উল্টো পথে চলাচল এবং অবৈধ পার্কিংসহ বিভিন্ন ধরনের ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্ত করা হচ্ছে। কোনো আইন লঙ্ঘন ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট যানবাহনের বিরুদ্ধে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিজিটাল মামলা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিবন্ধিত গাড়ির মালিকের মোবাইল নম্বরে এসএমএস পাঠিয়ে মামলার তথ্য জানানো হচ্ছে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহিনুর আলম বলেন, মহাসড়কে নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রম, অবৈধ পার্কিং, উল্টো পথে যানবাহন চালানোসহ অন্যান্য ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় এখন থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এতে চালকদের ট্রাফিক আইন মেনে চলার বিষয়ে সচেতনতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি মহাসড়কে শৃঙ্খলা বাড়ার সঙ্গে দুর্ঘটনাও কমবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এর আগে গত শনিবার হাইওয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল, ১৮ আগস্ট থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ওভারস্পিড, অবৈধ পার্কিং, উল্টো পথে চলাচলসহ বিভিন্ন ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আধুনিক এআই ক্যামেরার মাধ্যমে আইন অমান্যকারী যানবাহন শনাক্ত করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা করা হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট গাড়ির নিবন্ধিত মালিকের মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে মামলার তথ্য পাঠানো হবে।
জরিমানার অর্থ বিকাশ, নগদসহ নির্ধারিত অন্যান্য মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে পরিশোধের সুযোগ থাকবে। মঙ্গলবার থেকেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই ক্যামেরাভিত্তিক এই নজরদারি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে।
