ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় নিউমার্কেটের কাছে একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শিশুসহ নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। কলকাতা পুলিশ জানিয়েছে, নিহত সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। এ ঘটনায় অন্তত আটজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
মঙ্গলবার দিবাগত রাত পৌনে দুইটার দিকে মির্জা গালিব স্ট্রিটের তিনতলায় অবস্থিত হোটেল শিখা ইনে আগুন লাগে। আগুনের পর পুরো হোটেল ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে এবং বেশ কয়েকজন অতিথি ভেতরে আটকা পড়েন।
পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিহত ও আহত ব্যক্তিরা হোটেলটির আবাসিক অতিথি ছিলেন। তাঁরা চিকিৎসার উদ্দেশ্যে কলকাতায় গিয়েছিলেন এবং মির্জা গালিব স্ট্রিটের ওই হোটেলে অবস্থান করছিলেন।
হোটেলটির একজন অতিথি মো. রফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে জানান, রাত পৌনে দুইটার দিকে তৃতীয় তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। দ্রুত ধোঁয়ায় পুরো হোটেল ভরে যায়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, হোটেলে প্রবেশের পথ ছিল সরু ও অপ্রশস্ত এবং সেখানে অগ্নিনির্বাপণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল না।
কলকাতা পুলিশ এখনো নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় প্রকাশ করেনি। তবে পুলিশ জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডে নয়জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আটজন গুরুতর আহত হয়েছেন। নিহতরা বাংলাদেশের নাগরিক।
ভারতের দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে কলকাতা পুলিশের এক শীর্ষ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, নিহত নয়জনই বাংলাদেশি নাগরিক। এনডিটিভির অনলাইন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশিরাও রয়েছেন।
হোটেলটি কলকাতা ফায়ার সার্ভিসের সদর দপ্তরের খুব কাছেই অবস্থিত। আগুনের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং ভেতরে থাকা অতিথিদের উদ্ধারে অভিযান চালান। প্রাথমিকভাবে শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিস।
হোটেলে মোট কতজন অতিথি অবস্থান করছিলেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পাঁচতলা ভবনটির প্রতিটি তলায় ভিন্ন ভিন্ন নামে আবাসিক হোটেল রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, এসব হোটেলে বাংলাদেশি নাগরিকদের আনাগোনা বেশি। চিকিৎসার জন্য কলকাতায় আসা অনেক বাংলাদেশি এসব হোটেলে অবস্থান করেন।
