টানা কয়েক ঘণ্টার ভারি বৃষ্টিতে খাগড়াছড়ির বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক বন্যা ও জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। চেঙ্গী ও মাইনী নদীর পানি বেড়ে জেলার বেশ কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে বহু পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে যাওয়ায় বাসিন্দাদের উঁচু জায়গা ও সড়কে আশ্রয় নিতে হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার (২১ আগস্ট) মধ্যরাত থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত ভারি বৃষ্টির পর খাগড়াছড়ি সদর, দীঘিনালা ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ি ঢল নামে। মাইনী নদীর পানি বেড়ে দীঘিনালার নিম্নাঞ্চল, মেরুং, কবাখালী ও বোয়ালখালিসহ কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হয়।
দীঘিনালা চৌমুহনী স্টিল সেতুর দুই পাশের সড়কসহ কয়েকটি সড়কের অংশ পানিতে তলিয়ে গেছে। তবে এসব পথে এখনো যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
দীঘিনালা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের বেলুন মেকার শুগতি চাকমা জানান, শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার পর থেকে ১০৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
এদিকে চেঙ্গী নদীর পানি বেড়ে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার নিচের বাজার, মুসলিমপাড়া, বটতলী, কালাডেবা, গঞ্জপাড়া, ফুটবিল ও খবংপড়িয়াসহ বিভিন্ন নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। হঠাৎ পানি বেড়ে যাওয়ায় অনেকে ঘর থেকে প্রয়োজনীয় মালামাল সরিয়ে নেওয়ার সুযোগও পাননি। কেউ কেউ ঘরবাড়ি ছেড়ে উঁচু স্থান ও সড়কে আশ্রয় নিয়েছেন।
বন্যার পানিতে ঘরবাড়ির পাশাপাশি গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মুসলিমপাড়ার বাসিন্দা নজুরুল ইসলাম বলেন, অনেক মানুষ সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখেন ঘরের ভেতরে পানি ঢুকে গেছে। আকস্মিকভাবে পানি বেড়ে যাওয়ায় প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাননি অনেকে।
মেহেদীবাগ এলাকার বাসিন্দা পারভীন আক্তার বলেন, ‘মধ্যরাতে বৃষ্টি হয়েছে। তখন ঘুমিয়ে ছিলাম। সকালে পাশের বাড়ির লোকজন ডেকে জানান, ঘরে পানি ঢুকেছে। দ্রুত বের হয়ে আসি। বর্তমানে ঘরে গলা সমান পানি।’
এর মধ্যে খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা সড়কের আট মাইল এলাকায় পাহাড় ধসে সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মী ও স্থানীয়রা মাটি সরিয়ে ফেললে সকাল ৯টার দিকে ওই সড়কে যান চলাচল আবার স্বাভাবিক হয়।
জেলা প্রশাসক আনোয়ার সাদাত জানান, বন্যাকবলিত মানুষের জন্য শুকনা খাবার ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা দেওয়া হবে।
