জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় ঐক্যের আগামী ৫ সেপ্টেম্বরের ঢাকা–চট্টগ্রাম লংমার্চ নিয়ে কোনো আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক কর্মসূচির জন্য অনুমতির প্রয়োজন নেই; কর্মসূচির সময় ও স্থান সম্পর্কে পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে।
সোমবার সন্ধ্যায় গোলাম পরওয়ারের নেতৃত্বে ১১–দলীয় ঐক্যের একটি প্রতিনিধিদল পুলিশ সদর দপ্তরে পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
লংমার্চের জন্য পুলিশের কাছ থেকে অনুমতি নেওয়া হয়েছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে গোলাম পরওয়ার বলেন, বিষয়টি অনুমতির নয়, পুলিশকে অবহিত করার। নিরাপত্তার জন্য নয়, কোথায় ও কখন কর্মসূচি হবে তা জানাতেই আইজিপির সঙ্গে তাঁদের সাক্ষাৎ হয়েছে বলে জানান তিনি।
পুলিশের পক্ষ থেকে কী বলা হয়েছে জানতে চাইলে জামায়াতের এই নেতা বলেন, পুলিশ সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। একই সঙ্গে দলীয় নেতা-কর্মীদের স্থানীয় প্রশাসনকে সহযোগিতা করার জন্য বিরোধী দলের কাছেও তাঁরা সহযোগিতা চেয়েছেন।
গোলাম পরওয়ার জানান, সারা দেশে চারটি রুটে ১১–দলীয় ঐক্যের লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হবে।
পথসভাসহ লংমার্চের শুরু ও শেষের স্থান এবং বিস্তারিত কর্মসূচির সূচি লিখিতভাবে পুলিশকে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। কর্মসূচি নির্বিঘ্ন করতে পুলিশের কাছে সম্ভাব্য সহযোগিতাও চাওয়া হয়েছে।
আইজিপি, অতিরিক্ত আইজিপিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন উল্লেখ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, উভয় পক্ষের সহযোগিতায় লংমার্চ শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে বলে পুলিশ আশ্বাস দিয়েছে। এতে পুলিশের আন্তরিক সহযোগিতা পাওয়া যাবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
গোলাম পরওয়ার বলেন, ১১–দলীয় ঐক্যের লংমার্চের প্রধান দাবি গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন। এর পাশাপাশি দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট, সারসংকট এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতিসহ বিভিন্ন জনদুর্ভোগের সমাধানও তাঁদের দাবির মধ্যে রয়েছে।
১১–দলীয় প্রতিনিধিদলে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান ও হামিদুর রহমান আযাদ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান (মিলন), জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমীন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান (ইরান) এবং বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মাওলানা আবদুল মাজেদ আতহারীসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
