সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে সদ্য গঠিত ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’তে বাংলাদেশ যোগ দেবে কি না, তা সরকার বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দেশের অর্থনীতি, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের স্বার্থের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব গভীরভাবে মূল্যায়ন করা হবে বলে জানান তিনি।
সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শামা ওবায়েদ সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিবর্তিত বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দেশ নানা ধরনের আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক জোটে যুক্ত হচ্ছে। সার্ক, বিমসটেক, ইন্দো-প্যাসিফিক বা ব্রিকসের মতো বিভিন্ন কৌশলগত জোটের বিস্তারও ঘটছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েই মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। জোটে যুক্ত হলে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে কি না এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে কি না, সেসব বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
গত ৭ আগস্ট পবিত্র নগরী মক্কায় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান ত্রিপক্ষীয় এই প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। চুক্তির মূল শর্ত অনুযায়ী, সদস্য দেশগুলোর যেকোনো একটি আক্রান্ত হলে সেটিকে তিন দেশের ওপর যৌথ আক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
চুক্তিটি সামরিক সহযোগিতার পাশাপাশি সদস্য দেশগুলোর অর্থায়ন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত করে। আগ্রহী অন্যান্য দেশের জন্যও এতে যোগ দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
শামা ওবায়েদ বলেন, যৌথ জোটের সদস্য সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের শ্রমবাজার সম্পর্ক রয়েছে। সেখানে প্রায় ৪০ লাখ বাংলাদেশি প্রবাসী কাজ করছেন।
এ ছাড়া তুরস্কের সঙ্গেও বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক আলোচনা সাম্প্রতিক সময়ে জোরদার হয়েছে। ফলে মক্কা চুক্তির সম্ভাব্য লাভ-ক্ষতি এবং বাংলাদেশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর বিদ্যমান সম্পর্ক বিবেচনা করেই সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানান তিনি।
