ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জাতীয় সংসদে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তাঁর বক্তব্যের প্রতিবাদে শহরে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। একই সঙ্গে ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এনসিপির কোনো কর্মসূচি হতে দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।
জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে হাসনাত আব্দুল্লাহ দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রতি মাসে গড়ে ২৬০টি হত্যাকাণ্ড হয়েছে। আর বর্তমান সরকারের সময়ে প্রতি মাসে হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা ৩১১টি।
হাসনাতের দাবি অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ছয় মাসে ১ হাজার ৭৮০টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। বর্তমান সরকারের সময়ে একই সময়ে হত্যাকাণ্ড হয়েছে ১ হাজার ৭৮৯টি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সেখানে কনসার্ট ও নৌকাবাইচ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে একটি ‘কালচারাল জেলা’ হিসেবে উল্লেখ করলেও সেখানে গান-বাজনা ও সিনেমার মতো সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
হাসনাত আরও প্রশ্ন তোলেন, গত ছয় মাসে বর্তমান সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কতটা ভূমিকা রাখতে পেরেছেন এবং তাঁর কার্যক্রম ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে কি না।
হাসনাত আব্দুল্লাহর বক্তব্যের প্রতিবাদে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাত পৌনে ১২টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের জামিয়া ইউনিসিয়া মাদরাসা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়।
মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে পরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকদের দাবি অনুযায়ী, মিছিলে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ জন অংশ নেন।
এ সময় বিক্ষোভকারীরা ‘বয়কট বয়কট, হাসনাত হাসনাত’ স্লোগান দেন।
বিক্ষোভকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, হাসনাত আব্দুল্লাহ তাঁর বক্তব্যের জন্য ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এনসিপির কোনো কর্মসূচি হতে দেওয়া হবে না।
সোর্সের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেল ৪টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া শিল্পকলা একাডেমিতে এনসিপির সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) সংসদে হাসনাত আব্দুল্লাহ কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ লাইন্সে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন। এসব ঘটনায় কার্যকর ব্যবস্থা নিতে না পারায় তিনি সরকারের ব্যর্থতার সমালোচনা করেন।
হাসনাতের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ এবং এনসিপির কর্মসূচি ঠেকানোর হুঁশিয়ারির ফলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
