ক্রীড়া কূটনীতির মাধ্যমে বন্ধুত্ব, পারস্পরিক আস্থা ও বোঝাপড়া বাড়াতে ঢাকায় দ্বিতীয়বারের মতো ‘ডিপ্লোম্যাটিক ইনডোর গেমস ২০২৬’ আয়োজন করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। দুই দিনব্যাপী এ আয়োজনে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘স্পোর্টস ডিপ্লোমেসি ইনিশিয়েটিভ ২০২৬’-এর উদ্বোধনী আয়োজন হিসেবে গত ২৮ ও ২৯ আগস্ট ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ঢাকা (আইএসডি) ক্যাম্পাসে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। সোমবার (৩১ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি বলেন, মানুষের মধ্যে আস্থা ও বোঝাপড়ার ভাষা হিসেবে খেলাধুলা সবসময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এ ধরনের আয়োজন আন্তর্জাতিক অংশীদার ও দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের প্রচলিত কূটনৈতিক কাঠামোর বাইরে খোলামেলা আলোচনা ও সম্পর্ক গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি করে।
দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজিত ডিপ্লোম্যাটিক ইনডোর গেমসে ব্যাডমিন্টন ও টেবিল টেনিসের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্য দিয়ে ঢাকার কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সদস্যরা আনুষ্ঠানিক পরিবেশের বাইরে পারস্পরিক যোগাযোগের সুযোগ পান।
এবারের আয়োজনে বাংলাদেশ ছাড়াও আলজেরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, ডেনমার্ক, মিসর, জার্মানি, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, নেপাল, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, সুইডেন, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিক ও প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলও এতে অংশগ্রহণ করে।
এ ছাড়া জাতিসংঘ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), ইউএনডিপি, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম), আন্তর্জাতিক অর্থ করপোরেশন (আইএফসি) এবং ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ঢাকার প্রতিনিধিরাও প্রতিযোগিতায় অংশ নেন।
আইএসডির পরিচালক মাইক মিলার বলেন, কূটনৈতিক সম্প্রদায়ের সদস্যদের নিজেদের ক্যাম্পাসে স্বাগত জানাতে পেরে স্কুলটি গর্বিত। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের ক্রীড়াসুলভ মনোভাব নিয়ে একত্র হওয়া বৈচিত্র্য ও আন্তর্জাতিক মানসিকতার উদযাপনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে পেশাগত ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়টিও আয়োজনে গুরুত্ব পায়। উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠান, আতিথেয়তা স্থান এবং ম্যাচের মধ্যবর্তী সময়গুলোতে খেলোয়াড়দের পারস্পরিক আলোচনা ও যোগাযোগের সুযোগ রাখা হয়।
ব্যাডমিন্টনের পুরুষ দ্বৈতে আইওএমের সোহেল বড়ুয়া ও মো. মোরশেদুল আলম মুন্না চ্যাম্পিয়ন হন। আইএসডির মানস ও ভাইসাক রানার্সআপ হন।
মিশ্র দ্বৈতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জেসন ও সায়েদা তাসমিন সুলতানা শিরোপা জয় করেন। ইন্দোনেশিয়ার সাপ্তো সুদিয়ান্তো ও নুর রানার্সআপ হন।
টেবিল টেনিস দ্বৈতে ডব্লিউএইচওর মো. রুহুল কুদ্দুস ও মো. মোহসিন আজাদ চ্যাম্পিয়ন হন। তাদের সহকর্মী নিউটন রনি দাস ও মো. সুজা উদ্দিন ভূঁইয়া রানার্সআপ হন।
টেবিল টেনিস এককে ইউএনডব্লিউএফপির আয়ান দেওয়ান চ্যাম্পিয়ন এবং ডব্লিউএইচওর মো. রুহুল কুদ্দুস রানার্সআপ হন।
সমাপনী অনুষ্ঠানে বিজয়ী দলগুলোর হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নজরুল ইসলাম।
আয়োজকদের মতে, ক্রীড়াকে কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার ক্ষেত্রে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
