বাংলাদেশের সঙ্গে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক ব্যুরোর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক সারাহ আলড্রিচ বলেছেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সরকারের পাশে আছে যুক্তরাষ্ট্র এবং প্রয়োজনীয় যেকোনো সহায়তা দিতে তারা প্রস্তুত।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে গত ২৮ আগস্ট ওয়াশিংটন ডিসির বাংলাদেশ দূতাবাসে আয়োজিত এক স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন সারাহ আলড্রিচ। মঙ্গলবার দূতাবাসের প্রেস উইং থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।
সারাহ আলড্রিচ বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমানে একটি নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনা করছে এবং যুক্তরাষ্ট্র মনে করে বাংলাদেশ সঠিক পথে রয়েছে।
তিনি বলেন, গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী বিভিন্ন জটিলতা অতিক্রম করে অন্তর্বর্তী সরকার অল্প সময়ের মধ্যে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্পন্ন করেছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হয়েছে।
বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার আগ্রহের কথাও জানান সারাহ আলড্রিচ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সরকারের পাশে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র এবং দেশটির প্রয়োজনীয় যেকোনো সহায়তায় তারা প্রস্তুত।
জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করে বাংলাদেশকে কৃষি, অর্থনীতি ও রাজনৈতিক ধারায় এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে বাংলাদেশের উন্নতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন যুক্তরাষ্ট্রের এই কর্মকর্তা।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন আটলান্টিক কাউন্সিলের সিনিয়র ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের জেন-জি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে পরিবর্তনের সূচনা করেছে, তা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এ কারণে বাংলাদেশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে তিনি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।
স্মরণসভায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে জীবনদানকারী শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিক, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরসহ বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র ‘জুলাইকন্যা’ প্রদর্শন করা হয়। এতে জুলাই আন্দোলনে নারীদের ভূমিকা তুলে ধরা হয়েছে।
ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন দূতাবাসের কাউন্সেলর (পলিটিক্যাল-২) নাজনীন সুলতানা।
