বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণই বিএনপির সব রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস। জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই তাঁদের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চায় বিএনপি।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এ উপলক্ষে সোমবার দেওয়া এক বাণীতে দলের নেতা-কর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানান তারেক রহমান। সেখানে তিনি বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাস, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন এবং ভবিষ্যৎ লক্ষ্য নিয়ে এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপি জনকল্যাণমূলক, গণতান্ত্রিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রামের সঙ্গে যুক্ত। দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণের অবসানের পর একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের জনগণ আবার বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে।
তিনি বলেন, দেশের জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই বিএনপির লক্ষ্য। বাংলাদেশকে একটি জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপি সরকার কাজ করে যাচ্ছে। জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অক্ষুণ্ন রেখে দলের নেতা-কর্মী, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীরা দেশসেবায় ভূমিকা রাখবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে বাংলাদেশের মানুষের জন্য আনন্দ, উদ্দীপনা ও প্রেরণার দিন হিসেবে উল্লেখ করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর ঢাকার রমনা বটমূলের খোলা চত্বরে, রমনা রেস্তোরাঁ প্রাঙ্গণে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন।
তারেক রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার ইতিহাসে বিএনপির প্রতিষ্ঠা ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। তিনি দাবি করেন, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন এবং নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলগুলোর রাজনীতি করার অধিকার ফিরিয়ে দেন।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকেও স্মরণ করেন তিনি। তাঁর নেতৃত্বে বিএনপি দেশের প্রতিটি ঘরে পৌঁছে যায় বলে বাণীতে উল্লেখ করেন তারেক রহমান।
তারেক রহমান বলেন, গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিএনপি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ভূমিকা পালন করেছে। বিভিন্ন সময়ে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়লে দলের নেতা-কর্মী, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীরা জীবন দিয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর থেকে গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যাঁরা প্রাণ দিয়েছেন বা আহত হয়েছেন, তাঁদের অবদানের কথাও স্মরণ করেন তিনি।
তারেক রহমানের দাবি, দেশে যখনই জনগণ অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে, তখনই বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। বিএনপি সরকারের বিভিন্ন মেয়াদে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন ও নারীশিক্ষার প্রসারসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বাণীতে তারেক রহমান বলেন, গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখা এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য বিএনপির উদ্যোগের কারণে দলটি দেশবাসীর কাছে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছে।
তিনি বলেন, জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসকে অক্ষুণ্ন রেখে বিএনপির প্রতিটি নেতা-কর্মী, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীকে দেশমাতৃকার সেবায় নিজেদের নিয়োজিত রাখতে হবে। আগামী দিনেও তাঁরা বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
