বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী, সাবেক বিচারপতি, সাবেক সেনা কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, কওমি আলেমসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ৬৫০ জন।
মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইডিইবি) মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাঁরা জামায়াতে যোগ দেন। মাসব্যাপী গণসংযোগ কর্মসূচির অংশ হিসেবে জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা এই দাওয়াতি সমাবেশের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি ফুল ও ইসলামিক বই উপহার দিয়ে নতুন সদস্যদের বরণ করে নেন।
জামায়াতে যোগ দেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকার বংশাল থানা বিএনপির ২ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াকুব সরকার। তিনি বিএনপি থেকে সম্প্রতি জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দেওয়া ইসহাক সরকারের বড় ভাই।
এ ছাড়া যোগদানকারীদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক বিচারপতি সৈয়দ শাহিদুর রহমান, সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ এস এম খালেকুজ্জামান, সাবেক সেনা কর্মকর্তা কর্নেল ফারুক হোসাইন, বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক এসপি ওবায়দুল হক, জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার ও জাতিসংঘের সাবেক কর্মকর্তা সেলিম আহমেদ।
তালিকায় আরও রয়েছেন বাংলাদেশ নূরানী শিক্ষা বোর্ডের মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন এবং গেন্ডারিয়া লাল খাঁ সিটি মসজিদের সেক্রেটারি নেয়ামত উল্লাহ।
ব্যবসায়ীদের মধ্যে আবুল আয়েশ খান, ফিরোজ আলম খান, সিনহা এ খালিদ, হাজি শাহ আলম, আবদুর রাজ্জাক সোহাগ ও হুমায়ন কবিরের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া বংশাল থানার ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবদল নেতা মুশফিকুর রহমান, ৭৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি নেতা হাজি আলতাব হোসেন, ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক জাবেদ ওমর এবং ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের সমাজসেবক মোছলেহ উদ্দিন আহমেদও জামায়াতে যোগ দিয়েছেন।
যোগদানকারীদের মধ্যে কওমি আলেম মুফতি আবুল কালাম আজাদ, মাওলানা এনামুল হক আজাদী, মাওলানা আব্দুর রহমান আল হাবিবী, মাওলানা জসিম উদ্দিন (রসুলপুরি) ও মাওলানা হাসান জামিলের নামও রয়েছে।
সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেন, তিনি সমাজের মানুষের অকল্যাণ চান না এবং মানুষের ক্ষতি থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করেন। মানুষের উপকার করার চেষ্টা করেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সমালোচকদের উদ্দেশে তিনি দোয়া করার আহ্বান জানান। তাঁর ভাষ্য, এমন কথা বলা উচিত নয়, যে কথা নিজের সম্পর্কে শুনলে কষ্ট লাগে। তিনি বলেন, তলোয়ারের আঘাতের দাগ একসময় মিলিয়ে গেলেও মুখের কথার আঘাতের দাগ থেকে যায়।
কওমি আলেমদের প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত কওমিকে আলাদা করে দেখে না এবং তাঁদের দ্বীনি খেদমতকে ছোট মনে করে না।
তিনি আরও বলেন, বাতিলের সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না এবং কারও কাছে মাথা নত করা হবে না।
জামায়াতের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে শফিকুর রহমান বলেন, চলার পথে বাধা, সমালোচনা ও গালিগালাজ আসতে পারে। প্রয়োজনে জীবন ও বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ হারানোর কথাও উল্লেখ করেন তিনি। এসবকে আল্লাহর দেওয়া আমানত হিসেবে উল্লেখ করে তা ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকার কথা বলেন জামায়াতের আমির।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল। সঞ্চালনা করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি দেলোয়ার হোসেন।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নায়েবে আমির হেলাল উদ্দিন, সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য আবদুল মান্নান এবং ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন।
