জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে আজ মঙ্গলবার দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অধিবেশনের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে এক বছরের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন তিনি।
মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকেল ৩টায় জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের উদ্বোধন করবেন ড. খলিলুর রহমান। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি জার্মানির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনালেনা বেয়ারবকের স্থলাভিষিক্ত হবেন। এবারের অধিবেশন চলবে ২০২৭ সালের ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
অধিবেশনের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘আস্থা পুনরুদ্ধার, রূপান্তর ব্যবস্থাপনা: সবার জন্য কার্যকর একটি জাতিসংঘ’।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব বাংলাদেশের কূটনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রায় চার দশক পর আবারও কোনো বাংলাদেশি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বহুপক্ষীয় পদে দায়িত্ব পালন করতে যাচ্ছেন।
এর আগে ১৯৮৬-৮৭ মেয়াদে বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব ও রাজনীতিবিদ হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনের সভাপতি ছিলেন। প্রায় ৪০ বছর পর দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে এই দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন ড. খলিলুর রহমান।
গত ২ জুন নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে গোপন ব্যালটে ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হন ড. খলিলুর রহমান। নির্বাচনে মোট ১৯০ ভোটের মধ্যে তিনি পান ৯৯ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের আন্দ্রেয়াস কাকোরিস পেয়েছেন ৯১ ভোট।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদটি সংস্থার পাঁচটি আঞ্চলিক গ্রুপের মধ্যে পর্যায়ক্রমে বণ্টন করা হয়। ৮১তম অধিবেশনের জন্য এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের পালা থাকায় এই অঞ্চল থেকেই নির্বাচনে অংশ নেন খলিলুর রহমান।
দায়িত্ব গ্রহণের আগে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে বৈঠক করেন ড. খলিলুর রহমান। এ সময় জাতিসংঘে বাংলাদেশের কার্যালয়ের পক্ষ থেকে নতুন বৈশ্বিক নেতৃত্বের দায়িত্ব গ্রহণের জন্য তাঁকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানো হয়।
কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব বাংলাদেশের জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের অবস্থান তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। একই সঙ্গে বহুপক্ষীয় কূটনীতিতে বাংলাদেশের সক্রিয় ভূমিকা আরও জোরালো করার সুযোগ তৈরি হবে।
