গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় স্ত্রী শাহিনা বেগমকে হত্যার অভিযোগে মোরসেলিম আকাশ (২৭) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) আদালতের মাধ্যমে তাঁকে গাইবান্ধা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে স্থানীয় লোকজন মোরসেলিমকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ তাঁকে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় শাহিনার মা রহিমা বেগম বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় মোরসেলিমের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং আরও দুই থেকে তিনজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মোরসেলিম একটি প্রাইভেট কারে করে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় শাহিনাকে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর শাহিনাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর মোরসেলিম দ্রুতগতিতে গাড়ি চালিয়ে হাসপাতাল থেকে চলে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে এলাকায় গেলে স্থানীয় লোকজন তাঁকে আটক করেন এবং পুলিশকে খবর দেন।
একই রাতে পুলিশ তাঁকে থানায় নিয়ে আসে। এদিকে শাহিনার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্সচালক হৃদয় মণ্ডল জানান, চিকিৎসক শাহিনাকে মৃত ঘোষণার পর মোরসেলিমের আচরণে উপস্থিত ব্যক্তিদের সন্দেহ হয়। তিনি দ্রুত প্রাইভেট কার নিয়ে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যান। হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা তাঁকে আটকানোর চেষ্টা করেও সফল হননি।
শাহিনার মা রহিমা বেগমের অভিযোগ, মোরসেলিম তাঁর মেয়েকে হত্যা করে মরদেহ হাসপাতালে রেখে পালিয়ে যান। তিনি আরও দাবি করেন, মোরসেলিম মাদকাসক্ত ছিলেন এবং বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁর মেয়েকে প্রায়ই মারধর করতেন। ঘটনার আগের দিনও শাহিনাকে মারধর করা হয়েছিল বলে তিনি জানতে পেরেছেন।তদন্ত করছে পুলিশ
অভিযুক্তের পরিবারের সদস্যরা ঘটনার পর থেকে আত্মগোপনে থাকায় তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সারওয়ার আলম খান বলেন, শাহিনার শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
