মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে সবার জন্য অনুসরণীয় আদর্শ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য মহানবী (সা.)-এর দেখানো পথ অনুসরণ করতে হবে।
শুক্রবার বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত ‘রোড টু সিরাহ’ জাতীয় সিরাত পাঠ প্রতিযোগিতা ২০২৬-এর পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পথ হলো মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ অনুসরণ করা। তাঁর দেখানো পথ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অনুসরণ করতে হবে।
তিনি মহানবী (সা.)-এর শৈশবের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, শিশু বয়সেও তিনি অন্যের অধিকার নষ্ট করেননি, কারও সঙ্গে কষ্টদায়ক আচরণ করেননি এবং তাঁর মুখ থেকে অশ্লীল কথা বের হয়নি।কিশোর বয়সেও আদর্শের উদাহরণ
মহানবী (সা.)-এর কৈশোরের প্রসঙ্গ তুলে জামায়াতের আমির বলেন, কিশোর বয়সে তিনি ছিলেন শান্ত, সৌম্য, বুদ্ধিদীপ্ত ও দায়িত্বশীল।
কাবাঘর পুনর্নির্মাণের পর হাজরে আসওয়াদ স্থাপন নিয়ে চারটি গোত্রের মধ্যে বিরোধ তৈরি হলে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। সে সময় কিশোর মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ (সা.) বিষয়টির একটি ন্যায়সংগত সমাধান দিয়েছিলেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ডা. শফিকুর রহমান মহানবী (সা.)-এর জীবনের নানা প্রতিকূলতার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জন্মের আগেই তাঁর পিতা ইন্তেকাল করেন। ছয় বছর বয়সে তিনি মাকে এবং আট বছর বয়সে দাদাকে হারান। জীবনে একের পর এক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে।
তিনি বলেন, একজন ব্যবসায়ী, দার্শনিক, চিন্তাবিদ, সমন্বয়ক কিংবা বিচারকের দৃষ্টিকোণ থেকে জীবনের যে ক্ষেত্রেই অনুসরণের প্রশ্ন আসুক, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-ই অনুসরণীয় আদর্শ।হেদায়েত চাওয়ার গুরুত্ব
হেদায়েতের অর্থ সঠিক পথের নির্দেশনা উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আল্লাহর কাছে হেদায়েত চাওয়া মানে সঠিক পথ পাওয়ার জন্য দোয়া করা। অনেক সময় মানুষ অন্যের জন্য হেদায়েতের দোয়াকেও ভুলভাবে বদদোয়া মনে করে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
