গাজায় ফিলিস্তিনি সাধারণ মানুষের ওপর হামলায় ইসরাইলি বাহিনী কীভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও বিভিন্ন গোপন প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে, তা নিয়ে তৈরি ‘নাজা’ নামের একটি প্রামাণ্যচিত্র আলোচনায় এসেছে। অস্কারজয়ী দুই ইসরাইলি নির্মাতার তৈরি এবং ব্রিটিশ সংবাদপত্র ‘দ্য গার্ডিয়ান’ প্রযোজিত প্রামাণ্যচিত্রটি সম্প্রতি ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে।
ছবিটিতে ইসরাইলি সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা বিভাগের ২৪ সদস্য পরিচয় গোপন রেখে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, এআইনির্ভর বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ফিলিস্তিনিদের ওপর নজরদারি করা হতো। এরপর রাতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিজ ঘরে থাকা অবস্থায় তাঁদের লক্ষ্য করে বোমা হামলা চালানো হতো।হামলার ধরন নিয়ে নানা দাবি
প্রামাণ্যচিত্রে সাক্ষাৎকার দেওয়া সেনাসদস্যদের বক্তব্য অনুযায়ী, এসব অভিযানে মূল লক্ষ্যবস্তুর পাশাপাশি তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদেরও নিহত হওয়ার বিষয়টি তাঁরা জানতেন।
এ ছাড়া মোবাইল ফোন হ্যাক করে কথোপকথন শোনা, বেসামরিক মানুষের বাড়িঘর পরিকল্পিতভাবে পুড়িয়ে দেওয়া এবং খাবার সংগ্রহের স্থানে সাধারণ মানুষের ওপর গুলি চালানোর মতো অভিযোগও প্রামাণ্যচিত্রটিতে উঠে এসেছে।
প্রামাণ্যচিত্রটির প্রদর্শনী শেষে দর্শকেরা টানা ২৫ মিনিট দাঁড়িয়ে করতালি দেন। প্রতিবেদনে এটিকে কোনো চলচ্চিত্র উৎসবে বিরল একটি রেকর্ড হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
নির্মাতাদের ভাষ্য, বিচ্ছিন্ন কোনো সেনাসদস্যের অপরাধ তুলে ধরা তাঁদের উদ্দেশ্য নয়। বরং পুরো সামরিক ব্যবস্থার কথিত রক্তক্ষয়ী নীতিকে সামনে আনতেই প্রামাণ্যচিত্রটি নির্মাণ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের বিভিন্ন কমিশন ও আন্তর্জাতিক সংস্থা গাজায় চলমান পরিস্থিতিকে গণহত্যা হিসেবে উল্লেখ করেছে। ‘নাজা’ প্রামাণ্যচিত্রের মাধ্যমে সেই পরিস্থিতির পেছনে ব্যবহৃত কথিত কৌশল ও প্রযুক্তিগুলো বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরা হয়েছে।
