যুক্তরাজ্যে নিজের স্ত্রীকে অজান্তে মাদক প্রয়োগ করে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ধর্ষণের অভিযোগে ষাটোর্ধ্ব এক ব্যক্তি আদালতে ৬০টি অপরাধ স্বীকার করেছেন। ধর্ষণের পাশাপাশি স্ত্রীর অন্তরঙ্গ ছবি ও ভিডিও তার সম্মতি ছাড়া অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করার অভিযোগও রয়েছে।
বিবিসির প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, গ্রেটার ম্যানচেস্টারের স্টকপোর্ট এলাকার ওই ব্যক্তি ২০০৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে স্ত্রীর বিরুদ্ধে সংঘটিত ৬০টি অপরাধের অভিযোগ স্বীকার করেন। এসব অভিযোগের মধ্যে ধর্ষণ, অনুপ্রবেশমূলক যৌন নির্যাতন এবং ইচ্ছাকৃতভাবে মাদক বা অন্য কোনো পদার্থ প্রয়োগের অভিযোগ রয়েছে।
ম্যানচেস্টারের মিনশাল স্ট্রিট ক্রাউন কোর্টে মামলার শুনানির সময় ভুক্তভোগী নারীও উপস্থিত ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের সহায়তায় তিনি আদালতের পাবলিক গ্যালারি থেকে পুরো কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন।
শুনানির সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি একের পর এক অভিযোগের জবাবে দোষ স্বীকার করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তার বিরুদ্ধে একাধিক ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযুক্তের দোষ স্বীকারের পর গ্রেটার ম্যানচেস্টার পুলিশের সহকারী প্রধান কনস্টেবল রিক জ্যাকসন বলেন, তদন্তটি অত্যন্ত জটিল। পুরো তদন্ত প্রক্রিয়ায় ভুক্তভোগীকে বিশেষায়িত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, কেউ নিজে বা পরিচিত কেউ মাদক প্রয়োগের মাধ্যমে সংঘটিত যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে থাকতে পারেন বলে মনে করলে, প্রমাণ, নিশ্চিত স্মৃতি বা ঘটনার সম্পূর্ণ বিবরণ না থাকলেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।
এর আগে অভিযুক্ত ব্যক্তি স্ত্রীর সম্মতি ছাড়া তার অন্তরঙ্গ ছবি ও ভিডিও অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করার অভিযোগও স্বীকার করেছিলেন।
এ মামলায় আরও ১৩ জনের নাম এসেছে। তাদের মধ্যে একজন এর আগে ভুক্তভোগীর বিরুদ্ধে যৌন অপরাধের অভিযোগ স্বীকার করেছেন। বাকি ১২ সহ-আসামির বয়স ২৮ থেকে ৭৪ বছরের মধ্যে। তারা নিজেদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
আদালত জানিয়েছে, মামলার বিচারিক কার্যক্রম আগামী কয়েক সপ্তাহ চলবে। বিচার শেষে প্রধান অভিযুক্তের সাজা ঘোষণা করা হবে।
