স্প্যানিশ লা লিগায় এলচের বিপক্ষে ৩–২ গোলে জয়ের ম্যাচের আগে বিশেষ বার্তাসংবলিত টি-শার্ট পরা নিয়ে আলোচনায় এসেছে রিয়াল মাদ্রিদ। কিলিয়ান এমবাপ্পে, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও ইব্রাহিমা কোনাতে ওই টি-শার্ট পরেননি। বিষয়টি নিয়ে রিয়ালকে ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক।
গতকাল এলচের মাঠে ম্যাচ শুরুর আগে দুই দলের খেলোয়াড়দের হাতে একটি বিশেষ টি-শার্ট তুলে দেওয়া হয়। স্পেনের সেউতা শহরের বাসিন্দাদের প্রতি সংহতি জানাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এলচের খেলোয়াড়েরা টি-শার্ট পরে মাঠে নামলেও রিয়ালের তিন খেলোয়াড় ভিন্নভাবে প্রতিক্রিয়া জানান।
কিলিয়ান এমবাপ্পে ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়র টি-শার্টটি বুক পর্যন্ত পরেছিলেন। তবে কিছুক্ষণ পর তাঁরা সেটি নামিয়ে রাখেন। অন্যদিকে ইব্রাহিমা কোনাতে টি-শার্টটি পরেননি, শুধু হাতে ধরে রেখেছিলেন।
টি-শার্টটিতে লেখা ছিল, ‘আমরা সবাই কায়াবাস’। ‘কায়াবাস’ শব্দটি স্পেনের সেউতা শহরের স্থানীয় বাসিন্দাদের বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।সেউতাকে ঘিরে মানবিক সংকট
সেউতা মরক্কো সীমান্তে অবস্থিত স্পেনের একটি স্বায়ত্তশাসিত শহর। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে মরক্কো সীমান্ত দিয়ে প্রায় ৭২ হাজার অভিবাসী ও শরণার্থী স্পেনের ভূখণ্ডে প্রবেশের উদ্দেশ্যে সেউতায় চলে আসেন। প্রায় ৮৫ হাজার মানুষের এই শহরে বিপুলসংখ্যক মানুষের আগমনে স্বাস্থ্যসেবা, বাসস্থান ও স্থানীয় প্রশাসনের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।
লা লিগার ক্লাব ও খেলোয়াড়েরা এই উদ্যোগের মাধ্যমে সেউতার বাসিন্দাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ এবং শহরটির পরিস্থিতির দিকে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চেয়েছিলেন।
এই পরিস্থিতিতে রিয়ালের তিন খেলোয়াড়ের টি-শার্ট না পরার বিষয়টি আলোচনায় আসে। এ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, তাঁরা কি এই উদ্যোগকে সমর্থন করেন না।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘মুন্দো দেপোর্তিভো’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রিয়াল মাদ্রিদ এ বিষয়ে কোনো খেলোয়াড়কে পোশাক পরতে বাধ্য করার অবস্থানে নেই। ক্লাবের একটি সূত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, কে কী পোশাক পরবেন, সেটি বেছে নেওয়ার অধিকার প্রত্যেকের রয়েছে। ক্লাবের বেশির ভাগ খেলোয়াড় টি-শার্টটি পরেছিলেন বলেও সূত্রটি উল্লেখ করেছে।
বিষয়টি নিয়ে মাদ্রিদ ও বার্সেলোনাভিত্তিক সংবাদমাধ্যমগুলোর অবস্থানও এক নয়। বার্সেলোনাভিত্তিক ‘স্পোর্ত’ দাবি করেছে, রিয়াল নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে আগের ম্যাচে লেভান্তের বিপক্ষে বার্সেলোনার একই টি-শার্ট না পরার বিষয়টি সামনে এনেছে।
তবে ‘স্পোর্ত’-এর মতে, দুই ঘটনার প্রেক্ষাপট আলাদা। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, বার্সেলোনা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ওই উদ্যোগে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, আর রিয়ালের ক্ষেত্রে তিন খেলোয়াড় ব্যক্তিগতভাবে টি-শার্ট না পরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এদিকে একই টি-শার্ট নিয়ে রিয়াল বেতিসের মরক্কোন খেলোয়াড় আবদে এজ্জালজুলিকে ঘিরে আগের একটি ঘটনাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে ম্যাচে তিনি এই টি-শার্ট পরে মাঠে নেমেছিলেন। এর পর নিজ দেশের কিছু মানুষের কাছ থেকে তিনি সমালোচনার মুখে পড়েন।
ইনস্টাগ্রামে এজ্জালজুলি বলেন, সেউতাকে নিয়ে টি-শার্ট পরার পেছনে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল না। কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাওয়া একটি অঞ্চলের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানবিক কারণেই তিনি এটি পরেছিলেন বলে জানান।
তিনি আরও বলেন, এ কারণে কারও কাছে ক্ষমা চাওয়ার প্রয়োজন নেই এবং নিজের দেশের প্রতি তাঁর ভালোবাসা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলেও তিনি নিজের শিকড় নিয়ে গর্বিত থাকবেন।
