শরতের নীল আকাশ, মিঠে রোদ আর বিস্তীর্ণ জলরাশির ওপর ফুটে থাকা লাল শাপলায় অপরূপ হয়ে উঠেছে বরিশালের উজিরপুর উপজেলার সাতলার বিল। শাপলার মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য দেখতে প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন দর্শনার্থীরা। ছোট ডিঙি নৌকায় বিল ঘুরে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করছেন তাঁরা।
সাতলা, উত্তর সাতলা, পূর্ব সাতলা, মুড়িবাড়ি, পটিবাড়ি ও আলামদি গ্রামের বিলজুড়ে এখন লাল শাপলার সমারোহ। ভোরের আলো ফুটতেই পানির ওপর অসংখ্য শাপলা প্রস্ফুটিত হয়। সবুজ প্রকৃতি ও নীল আকাশের সঙ্গে লাল শাপলার মেলবন্ধনে তৈরি হয়েছে মনোরম পরিবেশ।
শাপলার মৌসুমকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নৌকার মাঝিদের ব্যস্ততাও বেড়েছে। দর্শনার্থীদের বিল ঘুরিয়ে দেখিয়ে আয় করছেন তাঁরা। স্থানীয় মাঝি শাহ আলম জানান, বছরের বেশির ভাগ সময় আয় কম থাকলেও শাপলার মৌসুমে প্রতিদিন নৌকা চালিয়ে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত আয় করেন।
ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে আসা পর্যটক সাইফুল ইসলাম বলেন, ছবিতে সাতলার শাপলার বিল দেখেছিলেন, তবে সরাসরি এর সৌন্দর্য আরও বেশি আকর্ষণীয় মনে হয়েছে। বরিশাল থেকে আসা দর্শনার্থী তানজিলা আক্তারও লাল শাপলা, সবুজ প্রকৃতি ও নীল আকাশের সমন্বয়ে তৈরি পরিবেশের প্রশংসা করেন।
সাতলার শাপলা শুধু পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্র নয়, স্থানীয় অনেক মানুষের আয়েরও উৎস হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন বিল থেকে শাপলা সংগ্রহ করে উজিরপুরসহ বরিশাল শহরের বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করছেন কিশোর ও তরুণেরা।
স্থানীয় কিশোর মামুন জানান, শাপলা সংগ্রহ করে প্রতিদিন ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা আয় করেন। তাঁর বাবা নেই এবং চারজনের সংসারে শাপলার মৌসুমে এই আয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
পর্যটকদের উপস্থিতি বাড়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের বেচাকেনাও বেড়েছে। খাবারের হোটেল ব্যবসায়ী মোশারফ মিয়া জানান, শাপলার মৌসুম শেষ হলে বেচাকেনা কমে যায়। এ সময় পর্যটকদের ভিড় থাকায় ব্যবসা তুলনামূলক ভালো হয়। কখনো বিদেশি পর্যটকরাও সেখানে আসেন।
স্থানীয়দের মতে, জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সাতলার বিলে শাপলা ফুটলেও আগস্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত এর সৌন্দর্য সবচেয়ে বেশি উপভোগ করা যায়। ভোর থেকেই দর্শনার্থীদের আনাগোনা শুরু হয়। নৌকাভ্রমণ, শাপলা সংগ্রহ ও স্থানীয় ব্যবসাকে কেন্দ্র করে এ সময়ে বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হয়।
উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলী সুজা বলেন, সাতলার লাল শাপলার বিল উপজেলার অন্যতম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের স্থান। দর্শনার্থীদের সুবিধার জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে পর্যটনকেন্দ্রটির আরও উন্নয়ন করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি, পর্যটকদের জন্য উন্নত নৌকাঘাট, বসার জায়গা, শৌচাগার, যোগাযোগব্যবস্থা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে সাতলার শাপলার বিলকে পরিকল্পিত পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এতে পর্যটকের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান ও আয়ও বাড়বে।
