রাজশাহীতে একটি ফ্ল্যাট থেকে মাহবুব আলম নামে চন্দ্রিমা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে নগরীর নাদের হাজির মোড় এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে তাঁদের আটক করা হয়।
পরে দুজনকে নগরীর চন্দ্রিমা থানায় নেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
সূত্র জানায়, শুক্রবার সকাল ৭টা থেকে নিজেকে মাহবুব আলমের স্ত্রী দাবি করা আন্নি নামে এক নারী ফ্ল্যাটটির দরজায় ডাকাডাকি করলেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া পাননি। পরে তিনি ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে জানান। এরপর ফায়ার সার্ভিসকেও খবর দেওয়া হয়।
ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে দরজা ভেঙে ভেতর থেকে মাহবুব আলম ও সানজিদা মৌ নামে এক নারীকে বের করে আনেন। পরে তাঁদের চন্দ্রিমা থানায় নেওয়া হয়।
মাহবুব আলম ২০২৪ সালে চন্দ্রিমা থানার ওসি ছিলেন। সে সময় এক ব্যক্তির কাছ থেকে খাম নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁকে চন্দ্রিমা থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়।
পরে তিনি নওগাঁ জেলা পুলিশে কর্মরত ছিলেন। সেখানে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। এরপর তাঁকে সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত করা হয়। কেন্দ্রটির কমান্ড্যান্ট জানিয়েছেন, প্রশিক্ষণকেন্দ্র থেকে কোনো ছুটি বা অনুমতি না নিয়েই তিনি রাজশাহীতে এসেছিলেন।ফ্ল্যাটে কারা ছিলেন
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাহবুব আলমের কথিত পালিত মেয়ের নামে নাদের হাজির মোড়ের ওই ফ্ল্যাটটি ভাড়া নেওয়া। সেখানে তাঁর মেয়ে ও জামাতা থাকেন। তবে বৃহস্পতিবার রাত থেকে ওই ফ্ল্যাটে মাহবুব আলম ও সানজিদা মৌ অবস্থান করছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সানজিদা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেননি। মাহবুব আলম তাঁকে নিজের স্ত্রী বলে দাবি করলেও এ দাবির পক্ষে কোনো কাবিননামা দেখাতে পারেননি।
অন্যদিকে, ফ্ল্যাটের বাইরে থাকা আন্নি আক্তার নিজেকে মাহবুব আলমের ষষ্ঠ স্ত্রী বলে দাবি করেন। মাহবুব আলমের দাবি, তিনি চার দিন আগে আন্নিকে তালাক দিয়েছেন। তবে আন্নি জানিয়েছেন, তিনি তালাকের কোনো কাগজ পাননি।
সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট মোস্তাক আহমেদ জানান, মাহবুব আলমের কোনো ছুটি ছিল না এবং কাউকে জানিয়েও তিনি রাজশিয়ায় যাননি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ করাও অপরাধ।
তিনি আরও জানান, মাহবুব আলম ওই প্রশিক্ষণকেন্দ্রে সংযুক্ত থাকলেও নওগাঁ জেলা পুলিশে কর্মরত। বিষয়টি নওগাঁ জেলা পুলিশকে জানানো হয়েছে এবং তারা বিভাগীয় ব্যবস্থা নেবে।
চন্দ্রিমা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মাহমুদ সিদ্দিকী জানিয়েছেন, মাহবুব আলম ও সানজিদা মৌয়ের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা থানায় আসার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
