মানবমস্তিষ্ক একটি একক অঙ্গ নয়; বরং এটি দুটি পৃথক স্নায়ুতন্ত্রের সমন্বয়ে গঠিত—এমন তথ্য উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের এক গবেষণায়। গবেষণাটি মস্তিষ্কের প্রাথমিক বিকাশ এবং বিভিন্ন গুরুতর স্নায়বিক রোগ নিয়ে গবেষণার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী নেচার-এ গত শুক্রবার প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছে, মস্তিষ্কের দুটি পৃথক স্নায়ুতন্ত্র আলাদাভাবে বিকশিত হয়। গবেষকদের মতে, প্রাণীর পৃথক স্নায়ুতন্ত্রের অস্তিত্ব প্রায় ৫০ কোটি বছর আগেও ছিল, যা পরবর্তী সময়ে প্রায় একসঙ্গে কাজ করার কাঠামো তৈরি করেছে।
গবেষণায় মস্তিষ্কের পেছনের অংশকে তুলনামূলকভাবে প্রাচীন অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই অংশকে ‘হিন্দব্রেন’ বা পশ্চাৎ-মস্তিষ্ক বলা হয়। অন্যদিকে অগ্র-মস্তিষ্ক ও মধ্য-মস্তিষ্ক মানুষের উচ্চতর চিন্তাভাবনার সঙ্গে যুক্ত।
এই অংশগুলোর কার্যক্রমের মাধ্যমেই মানুষ কবিতা লেখা, গণিতের মতো জটিল বিষয় নিয়ে চিন্তা করা এবং নিজের উৎপত্তি সম্পর্কে কৌতূহলী হওয়ার মতো সক্ষমতা অর্জন করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই আবিষ্কারের ফলে গবেষকেরা প্রথমবারের মতো গবেষণাগারে মস্তিষ্কের একটি বিশেষ ধরনের কোষ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। বিজ্ঞানীদের মতে, এই সাফল্য বিভিন্ন গুরুতর স্নায়বিক রোগ নিয়ে গবেষণায় নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।
বিশেষ করে স্পাইনাল মাসকুলার অ্যাট্রোফি (এসএমএ), অ্যামায়োট্রফিক ল্যাটারাল স্ক্লেরোসিস (এএলএস) এবং ব্রেন স্টেম আক্রান্ত করে এমন অন্যান্য মারাত্মক রোগের গবেষণায় এটি কাজে লাগতে পারে।
গবেষকেরা আশা করছেন, মস্তিষ্কের প্রাথমিক বিকাশ সম্পর্কে এই নতুন ধারণা এসব রোগের কারণ ও চিকিৎসা নিয়ে গবেষণাকে আরও এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে।
