ভারতের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (আইআইটি) মুম্বাইয়ের পোওয়াই ক্যাম্পাসের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সাহিল ওয়াকোড়ের মৃত্যুকে ঘিরে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে জাতপাতভিত্তিক অপমান ও মানসিক হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিনের এই হেনস্তার কারণেই সাহিল আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।
সাহিলের বাবা রবীন্দ্র চক্রধর ওয়াকোড়ে এ ঘটনায় অধ্যাপক সূর্যনারায়ণ দুল্লার বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেছেন। মামলায় আরও দুজনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে। মুম্বাই পুলিশ জানিয়েছে, মামলাটির তদন্তভার ক্রাইম ব্রাঞ্চের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
গত শুক্রবার পরীক্ষার সময় চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে নকল করার অভিযোগে সাহিল ধরা পড়েন। এর কয়েক ঘণ্টা পর হোস্টেলের চতুর্থ তলার কক্ষ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি আইআইটি মুম্বাইয়ের এনার্জি সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
সাহিলের বাবা অভিযোগ করেছেন, প্রতিষ্ঠানের পরিচালক শিরীষ বি কেদাড়ের নির্দেশে গত তিন মাস ধরে তাঁর ছেলে জাতপাতভিত্তিক অপমান, হুমকি ও মানসিক হেনস্তার শিকার হয়ে আসছিলেন। সাহিলের মা-ও এর আগে ছেলেকে হেনস্তা করার অভিযোগ করেছিলেন।
পরিবারের আনুষ্ঠানিক অভিযোগে বলা হয়েছে, সাহিল দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ইয়াওতমালে পড়াশোনা করেন। পরে আইআইটি মুম্বাইয়ে ভর্তি হয়ে হোস্টেলে ওঠেন। তাঁর প্রথম বছর কোনো সমস্যা ছাড়াই কাটলেও দ্বিতীয় বর্ষে সমস্যার শুরু হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাহিলের বাবা আরও অভিযোগ করেন, প্রায় তিন মাস ধরে তাঁর ছেলে গুরুতর মানসিক হেনস্তা এবং জাতপাতভিত্তিক গালাগালির শিকার হন। অভিযোগে অধ্যাপক সূর্যনারায়ণ দুল্লার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি সাহিল যে পরীক্ষায় নকল করার সময় ধরা পড়েছিলেন, সেই পরীক্ষার পরিদর্শক ছিলেন।
পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, সাহিল তাঁর বাবাকে জানিয়েছিলেন যে অধ্যাপক দুল্লা তাঁকে জাতপাত নিয়ে হুমকি দিয়েছিলেন। তাঁর বাবার দাবি, এসব ঘটনার জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
অভিযোগের বিষয়ে আইআইটি মুম্বাই জানিয়েছে, সাহিলের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা শুরু করা হয়নি। প্রতিষ্ঠানের ভাষ্য অনুযায়ী, ইনস্ট্রাক্টর ও বিভাগীয় প্রধান তাঁর সঙ্গে কথা বলেছিলেন, কাউন্সেলিং করেছিলেন এবং তাঁকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে পরীক্ষার ঘটনাটি তাঁর একাডেমিক ক্যারিয়ারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না।
প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, এরপর সাহিল তাঁর হোস্টেল কক্ষে ফিরে যান এবং সন্ধ্যার দিকে তাঁকে সেখানে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তাঁর মৃত্যুর পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করছে বলেও আইআইটি মুম্বাইয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
এদিকে, সাহিলের মৃত্যুর ঘটনায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, ২০২৩-এর অধীনে আত্মহত্যায় প্ররোচনা ও যৌথ দায়ের মামলা করা হয়েছে। পাশাপাশি তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইন, ১৯৮৯-এর অধীনেও মামলা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সাত মাসের মধ্যে আইআইটি বোম্বাই ক্যাম্পাসে এটি আত্মহত্যার তৃতীয় ঘটনা।
