ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগের জন্য ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে দলটির তিন প্রধান নেতা অভিজিৎ দিপকে, আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাস এ দাবি জানান। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পদত্যাগ না করলে দেশজুড়ে আবারও আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
সিজেপির নেতারা এর আগে হওয়া যন্তর মন্তর আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। দলটির প্রধান নেতা অভিজিৎ দিপকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগও করেন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও। নয়াদিল্লিতে কংগ্রেসের প্রধান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন এবং তাঁর পদত্যাগ দাবি করেন। রাহুল গান্ধী বলেন, কংগ্রেস দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেবে না।
প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর এ নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে। ওই প্রতিবেদনের বরাতে বলা হয়, গত ১০ মাসে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কিছু একতরফা সিদ্ধান্ত নিয়ে দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশি ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন।রাহুলের অভিযোগ
রাহুল গান্ধী ভোটে কারসাজির অভিযোগ তুলে বলেন, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকেই কংগ্রেস এ বিষয়ে প্রশ্ন তুলে আসছে। তাঁর দাবি, দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর তাদের অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচনব্যবস্থা নিয়ে অনিয়মের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংবিধান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি জ্ঞানেশ কুমারের নিয়োগের বিরোধিতা করে তিনি আগে একটি চিঠি দিয়েছিলেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানান।
সংবাদ সম্মেলনে সিজেপির নেতারা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের পাশাপাশি আরও কয়েকটি দাবি জানান। তাদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা, এসআইআর প্রক্রিয়া বন্ধ করা এবং ২০২৫ সালের ভোটার তালিকার ভিত্তিতে নির্বাচন আয়োজন করা।
এ ছাড়া নির্বাচন কমিশনার নিয়োগসংক্রান্ত ২০২৩ সালের আইন সংশোধন করে নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের দাবি জানিয়েছে দলটি। এসআইআর প্রক্রিয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয় খতিয়ে দেখতে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন এবং এ বিষয়ে ভারতের শীর্ষ আদালতের হস্তক্ষেপও চেয়েছে তারা।
