রাঙামাটির পাহাড়ি এলাকায় এবার সবুজ মাল্টার বাম্পার ফলন হয়েছে। বাজারগুলোতে পাহাড়ে উৎপাদিত এই মাল্টার সরবরাহ বেড়েছে। সাধারণ মাল্টার তুলনায় বেশি মিষ্টি হওয়ায় এর চাহিদাও বেশি। ভালো দাম পাওয়ায় লাভবান হচ্ছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রকা সবুজ এবং পাকলে গাঢ় সবুজ রং ধারণ করে। পাকলেও এর রং হলুদ হয় না।
গাছের পাতার আড়ালে ফলের রংও সবুজ হওয়ায় দূর থেকে মাল্টার বাগানে ফলের উপস্থিতি সহজে বোঝা যায় না।
মাল্টাচাষি হেমা কুমার চাকমা জানান, পাহাড়ের মাটি ও আবহাওয়া মাল্টা চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় এবার চাষিরা ভালো ফলন পেয়েছেন। তুলনামূলক কম খরচে বেশি ফলন হওয়ায় লাভের পরিমাণও ভালো। রাঙামাটিতে উৎপাদিত মাল্টা এখন ঢাকা ও চট্টগ্রামেও সরবরাহ করা হচ্ছে।
রাঙামাটি কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলায় দেশীয় মাল্টার চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। শুকরছড়ি গ্রামের অনেক চাষিও মাল্টা চাষে সফলতা পেয়েছেন। এতে পাহাড়ি কৃষকদের মধ্যে এ ফল চাষে আগ্রহ বাড়ছে।
রাঙামাটি জেলায় প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হেক্টর জমিতে মাল্টার বাগান রয়েছে। পাহাড়ি মাটির উর্বরতা ও যথাযথ পরিচর্যার কারণে মাল্টাগাছ ভালোভাবে বেড়ে উঠছে। প্রতি হেক্টরে প্রায় ১২ মেট্রিক টন মাল্টা উৎপাদন হচ্ছে। উৎপাদিত মাল্টা বিক্রি করে চাষিরা ৪ থেকে ৫ কোটির বেশি টাকা আয় করেছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
অনেক কৃষক এখন জুম চাষের পরিবর্তে মাল্টা চাষের দিকে ঝুঁকছেন। পাহাড়ে উৎপাদিত দেশীয় মাল্টার সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারলে স্থানীয় কৃষকরা আরও অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারেন।
রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মিনরুজ্জামান বলেন, পাহাড়ে উৎপাদিত মাল্টার নাম বারি মাল্টা-১। অন্য অনেক মাল্টার রং হলুদ হলেও পাহাড়ের এই মাল্টা সবুজ। এটি রসালো ও মিষ্টি হওয়ায় এর চাহিদাও বেশি।
তিনি জানান, কৃষি বিভাগ মাল্টাচাষিদের সহযোগিতা করছে। পাহাড়ি জমিতে মাল্টা চাষ সম্প্রসারণে কৃষকদের মধ্যে মাল্টার চারা বিতরণ করা হচ্ছে এবং তাদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।
