চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) সদ্য বিদায়ী উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। শনিবার সকালেও ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন তাঁরা।
বিক্ষোভ চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে উদ্দেশ করে ‘লাল কার্ড’ প্রদর্শন করেন শিক্ষার্থীরা। আন্দোলন নিয়ে গণমাধ্যমে নতুন উপাচার্যের দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দেয়ালে গ্রাফিতিও আঁকেন আন্দোলনকারীরা।
শুক্রবার গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম বলেন, বিক্ষোভে ৩০ থেকে ৩৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। তাঁর দাবি, অধিকাংশ শিক্ষার্থী ইতিমধ্যে ক্যাম্পাসের তালা খুলে দিয়েছেন এবং তাঁকে স্বাগত জানিয়ে ক্যাম্পাসে আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন।
এর পরদিন শনিবার সকালে শিক্ষার্থীরা ‘প্রতীকী লাল কার্ড প্রদর্শন’ কর্মসূচি পালন করেন। তাঁদের বিক্ষোভ মিছিল শহীদ মিনার থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার একই স্থানে এসে শেষ হয়।
এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘রেড কার্ড টু অনলাইন ভিসি’ এবং ‘অনলাইন ভিসি, অনলাইন ভিসি, মানব না, মানব না’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বক্তব্য, ক্যাম্পাসের চলমান আন্দোলন ও তাঁদের অবস্থান সম্পর্কে নতুন উপাচার্য গণমাধ্যমে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ কারণে তাঁরা প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন।
যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাহিদুর রহমান ওসমানী বলেন, নতুন উপাচার্য অনলাইনে যোগদান করেছেন এবং গণমাধ্যমে তাঁর দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদেই শিক্ষার্থীরা লাল কার্ড কর্মসূচি পালন করছেন।
গত ২১ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে চুয়েটের উপাচার্যের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। একই প্রজ্ঞাপনে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিকস, কম্পিউটার অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়।
এর প্রতিবাদে ওই রাত থেকেই শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। পরদিন থেকে তাঁরা শাটডাউন ও গণ-অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছেন। পরে সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষক সমিতি ও কর্মকর্তা সমিতিও কর্মবিরতির ঘোষণা দেয়।
শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহাল করাই তাঁদের একমাত্র দাবি।
