ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক সফরের প্রতিবাদে বিক্ষোভে অংশ নিয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন হলিউড অভিনেত্রী হান্না আইনবেন্ডার। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে নেতানিয়াহুর ভাষণের আগে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের বাইরে আয়োজিত ওই বিক্ষোভ থেকে নিউইয়র্ক পুলিশ তাকে আটক করে।
গ্রেপ্তারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন আইনবেন্ডার। তিনি বলেন, তার ও অন্য বিক্ষোভকারীদের গ্রেপ্তারের ছবি যদি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে, তাহলে সেই মনোযোগ ফিলিস্তিন ও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের দিকে দেওয়া উচিত।
আইনবেন্ডার আরও অভিযোগ করেন, বসতি স্থাপনকারীদের হামলা, বাড়িঘর ধ্বংস এবং ঘুমন্ত মানুষের ওপর বোমা হামলার মতো ঘটনাগুলো নিয়মিত ঘটলেও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে সেগুলো যথেষ্ট গুরুত্ব পাচ্ছে না।
নিজের বক্তব্যে নেতানিয়াহুকে চলমান রক্তপাতের অন্যতম প্রধান পরিকল্পনাকারী হিসেবে উল্লেখ করেন অভিনেত্রী। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রধান রাজনৈতিক দল রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদেরও সমালোচনা করেন তিনি। তার দাবি, নেতানিয়াহুর মতো ব্যক্তিদের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমর্থন দেওয়ার মাধ্যমে মার্কিন রাজনীতিবিদেরা এসব কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখতে সহায়তা করছেন।
ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আইনবেন্ডার। তার ভাষ্য, গাজায় হত্যাকাণ্ড, লুটপাট ও ভূমি দখল বন্ধে মার্কিন সরকারের প্রভাব রয়েছে। তবে সেই ক্ষমতা ব্যবহারের পরিবর্তে নেতানিয়াহুকে স্বাগত জানানো হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
বিক্ষোভে হান্না আইনবেন্ডারের পাশাপাশি অভিনেত্রী সুসান সারান্ডন, ইন্ডিয়া মুর, কৌতুক অভিনেতা ক্যালেব হিয়ারন এবং হুইসেলব্লোয়ার চেলসি ম্যানিংসহ আরও কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তি আটক হন। কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষও অংশ নেন।
বিক্ষোভকারীদের হাতে থাকা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ডে যুদ্ধ ও সামরিক ব্যয়ের পরিবর্তে মানুষের কল্যাণে অর্থ ব্যয়ের আহ্বান জানানো হয়। একটি প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘বোমায় নয়, মানুষকে অর্থ দিন’।
